
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। রাকসু নেতারা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখার একটি সুপরিকল্পিত ধারাবাহিকতার অংশ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সাড়ে আটটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে রাকসুর সদস্যদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাকসুর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। তিনি বলেন, “শাকসু নির্বাচন বানচালের পেছনে শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়, বরং তাদের মাদার অর্গানাইজেশনসহ জাতীয় পর্যায়ের হস্তক্ষেপ রয়েছে। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ও গণতন্ত্রবিরোধী ঘটনা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “হাইকোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বাদীপক্ষের ভাষায় কথা বলেছেন। একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্র গ্রাস করার চেষ্টা করছে।”
জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের পর বা কেয়ামতের পর যখনই হোক না কেন, এই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা কখনোই সফল হবে না। পাঁচটি ক্যাম্পাসের ছাত্ররা ইতোমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কাদের চায়।”
এ সময় রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শাকসু নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হয়ে পেছানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ডাকসু, রাকসু, চাকসু, জাকসু—সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী নিয়মিত বাধা সৃষ্টি করে আসছে। যে নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না, সে নির্বাচন হতে দেবে না এমন মনোভাব তাদের দীর্ঘদিনের।”
তিনি আরও বলেন, “৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও তারা নানা অজুহাতে নির্বাচন ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু পেছানোর পরও তারা নির্বাচিত হতে পারেনি। এখন আবার জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানানো হয়।