May 25, 2026, 1:31 am
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনের আগে বাড়ছে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ :-

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। হঠাৎ করেই আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেও বড় অংশ এখনো রয়ে গেছে অপরাধীদের হাতে। কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশন জার্মানির তৈরি একটি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১৪টি চাইনিজ রাইফেল, ৩১টি চাইনিজ এসএমজি, ২০৭টি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল, ৪৫৫টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৩৯৩টি শটগান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান ও পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে আরও বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনের আগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে।

তবে পুলিশের এই আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, অস্ত্র উদ্ধারের বাস্তব প্রমাণ দৃশ্যমান হতে হবে।

তিনি বলেন, যেসব অস্ত্র দিয়ে টার্গেট কিলিং হয়েছে, সেগুলো ব্যবহারকারীরাই যে লুট করেছে- এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা অনেক সময় আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধু অভিযানের নাম বড় হলে হবে না, কঠোর ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

ড. তৌহিদুল হক আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সগুলো কার্যকরভাবে কাজ করলে অভিযানের সফলতা আসবে। টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এ ধরনের ঘটনা আবার বাড়লে নির্বাচন অনুকূল পরিবেশে হবে কিনা- সে প্রশ্ন সামনে আসবে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ফেরাতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও জোরালো ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। না হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্বাচনকে ঘিরে বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা