May 25, 2026, 2:38 am
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণভোটে সরকারের ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ :-

আগামী মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি এই গণভোট নিয়ে ইতোমধ্যে অধ্যাপক ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার শুরু হয়েছে। তবে সেই প্রচারে সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্য প্রচার করছে, যা আইনের ব্যত্যয় বলে মনে করছেন নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা থাকবে নিরপেক্ষ। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের সুফল ও সচেতনতার বিষয়ে প্রচার করতে পারে। কিন্তু একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, বেসরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাঁ ভোটের প্রচার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে সরকারের একপাক্ষিক প্রকাশ্য অবস্থান নিরপেক্ষ মতামত প্রদানে বাধা ও আইনের লঙ্ঘণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচনের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরকার ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তার অর্থ হলো সরকার একটা পক্ষ নিয়ে নিচ্ছে। সরকার যদি একটা অবস্থান নিয়ে

নেয়, তাহলে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি তা এখানে থাকছে না।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী আরও বলেন, নির্বাচনে হ্যাঁ ভোট যদি জয়যুক্ত হয় তখন কেউ তো আদালতে যেতেও পারে। গিয়ে বলতে পারে নির্বাচনের এই অংশে সুষ্ঠু ভোট হয় নাই। কারণ সরকার এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। গণভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। তাই নৈতিকভাবে সরকারের গণভোটে একপাক্ষিক প্রচার থেকে বিরত থাকাই

উচিত। গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা এবং এই অধ্যাদেশ ও বিধির বিধানাবলি অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কমিশন, উহার মতে, প্রয়োজনীয় যে কোনো নির্দেশাবলি জারি এবং উহার অধীনস্থ যে কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক এই অধ্যাদেশ ও বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত যে কোনো আদেশ ও নির্দেশ পুনর্বিবেচনা এবং তৎসম্পর্কে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদানের ক্ষমতাসহ যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

এই ধারায় নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’ এখানে শাস্তির বিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ এখনও দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সব ব্যাংক প্রচার চালাবে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় দুটি করে ব্যানার টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচার চালাতে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। জুমার খুতবায় আলোচনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন এবং পোশাক কারখানার সামনে ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনাও দিয়েছে সরকার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে দেশে আর কখনও রাতের ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। যারা দেশ চালান, বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই তারা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য আবদুল আলীম মনে করেন, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি পক্ষ। কেননা এই সরকার সংস্কারের উদ্যোগী সরকার। তিনি দাবি করেন, এর আগে যতবার গণভোট হয়েছিল তখনকার সরকারও সেগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ডিসি, ইউএনও যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন তারা এই ‘হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় সংশ্লিষ্ট থাকলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে।

এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক আরও বলেন, সাধারণত নির্বাচনের সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রিসাইর্ডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইর্ডিং অফিসারের মতো ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। তাদেরকেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ থেকে। ডিসি, ইউএনও তারা যদি সরাসরি ক্যাম্পেইন করে, যেহেতু তারা ভোটগ্রহণের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের আসনে তারাই সর্বেসর্বা, তাই তারা যদি ইন্টারভেন (হস্তক্ষেপ) করে যে হ্যাঁ ভোটে ভোট দাও তখন এটার ফেয়ারনেস নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এমনকি না ভোটের সংখ্যা কম দেখিয়ে, এই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগও উঠতে। ফলে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষের এই প্রচার থেকে তাদের দূরে রাখা উচিত।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি মূলত চারটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এগুলোর মধ্যে প্রত্যেক ভোটারকে জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দুই কক্ষবিশিষ্ট আগামী সংসদ হবে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভোটারদেরকে চারটি প্রশ্নের উত্তর ‘একটি’ টিকের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। গণভোটের প্রচার নিয়ে সরকারের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা