May 25, 2026, 12:35 am
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন: অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতি ও মৎস্যচাষী সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া এনআইডি, ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড ও ভুয়া উপ-আইন ব্যবহার করে এসব সমিতি অনুমোদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অদৃশ্য এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি শতাধিক সমিতির নিবন্ধন নিয়েছেন। এতে এনআইডি, মৎস্যজীবী কার্ড ও উপ-আইনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। পুরো উপজেলার পুকুর ও জলাশয় কুক্ষিগত করতে এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জালিয়াতি চক্রে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলামসহ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সমিতির নিবন্ধনের জন্য অফিসে টেবিলেই ৫০ হাজার টাকা দিলেই এসব ভুয়া সমিতির নিবন্ধন পাওয়া যায়। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গাঙ্গোবাড়ি এলাকার পুকুর সিন্ডিকেটের মূল হোতা বিশু বর্তমানে ‘ভয়ঙ্কর বিশু’ নামে পরিচিত। বিশু অবৈধ কাগজপত্র দিয়ে সমিতি নিবন্ধন করিয়ে এবং হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে একাই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পুকুর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তিপত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সবুজ হাসানের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ট্রেজারি চালান জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ জালিয়াতিতে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসীর সহযোগিতা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, মাধবপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, গোদাগাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, শ্রীমন্তপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, রামনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, গোলাপফুল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, কাঁকনহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃসহ বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ—এসব সমিতির অফিস, এনআইডি, মৎস্যজীবী কার্ড ও উপ-আইনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

তালিকাভুক্ত হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি খালিদ হাসানকে ফোন করলে তিনি জানান, “আমি খালিদ হাসান নই। আমি চারঘাট থেকে বলছি। এসব সমিতির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

এদিকে মুক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভুয়া ঠিকানা ও ভুয়া এনআইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধিত একটি সমিতির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা সমবায় অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ (গ্রাম: রসুলপুর নুন্দাপুর, ডাকঘর: কাঁকনহাট, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী) নামে একটি সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যার নিবন্ধন নম্বর-২০২৫.১.০২.৮১৩৪.০৩৯৮ (তারিখ: ৭ মে ২০২৫)। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সমিতির কর্ম ও নির্বাচনি এলাকার মধ্যে রসুলপুর নুন্দাপুর নামে কোনো গ্রাম নেই, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ঠিকানা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমিতির ২০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র একজন সদস্য সমিতির নির্ধারিত এলাকায় থাকেন, বাকি ১৯ জনই এলাকার বাইরে। মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের জন্য ২০ জন সদস্যের এফআইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে সমিতিটি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উপজেলা সমবায় অফিসের স্টাফ পরিদর্শক মো. খাইরুল ইসলাম ও তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মো. এমদাদুল হক (পিতা: মৃত আরমান আলী, গ্রাম: বালিয়াঘাটা, ডাকঘর: চৌহদ্দিটোলা, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী)-এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন গোদাগাড়ী উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতি ছাড়া অন্য উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতির অনলাইন আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুস শাদাৎ রত্ন এবং সদস্য সচিব সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, ৪ জানুয়ারি ০৫.৪৩.৮১.৩৪.০০০.০৯.০১৬.২৬-১৭ নম্বর স্মারকে বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের জলমহাল ইজারা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় গোদাগাড়ী উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতির পাশাপাশি রাজশাহী জেলার চারঘাট, বাঘা, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতিগুলোকে ইজারায় অংশগ্রহণের জন্য সিডিউল বিক্রি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এভাবে অন্য উপজেলার সমিতিকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার ৬ নম্বর ধারার ৪ উপধারা লঙ্ঘিত হবে এবং এতে পুকুর সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্যরা লাভবান হবে। অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতিগুলো ইজারা থেকে বঞ্চিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তের জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।”

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি ভুয়া লাইসেন্স বা তথ্য গোপন করে লাইসেন্স নিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা