May 25, 2026, 2:57 am
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চতুর্মুখী চাপে নির্বাচন কমিশন

ডেস্ক নিউজ :-

চলছে নির্বাচনী ট্রেন। ক্রমেই এগিয়ে আসছে গন্তব্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে দ্বিতীয় দফা তথা চূড়ান্ত ধাপের রোডম্যাপ। আগামীকাল বুধবার প্রতীক নিয়ে মাঠে নামবেন প্রার্থীরা। এর পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এই যখন অবস্থা, তখন একের পর এক চাপের মুখে পড়ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, এসব বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না ইসি। একপেশে আচরণের অভিযোগ আসছে অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও।

শুধু তাই নয়, খোদ ইসির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে। উপরন্তু, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইসির সামনে গত দুই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। অন্যদিকে বড় দুটি দলের দিকে ইসি ঝুঁকে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও। সব মিলিয়ে, চতুর্মুখী চাপে আছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসির কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ইসির তরফে বলা হচ্ছেÑ তারা কোনো চাপে নেই।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, একটি কমিশনের একটি জাতীয় নির্বাচন করারই সুযোগ থাকে। দুবার কোনো কমিশনই সুযোগ পায় না। কোনো কমিশনই আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে না। এর পরই তিনি যোগ করেনÑ কমিশন একদমই কোনো চাপে নেই। সবাই চায় ভালো নির্বাচন, কমিশনও তাই চায়।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ, পরামর্শ জানাচ্ছেন। এতে কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোট সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে কমিশন। ইসি বড় সমস্যার সম্মুখীন এখনও হয়নি। রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আমরা খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আপিল শুনানিতে মনে হয়েছে, একটি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। প্রার্থীরা যেভাবে শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন, ভোটের মাঠেও তারা তাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে মনে করে কমিশন।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আবদুল আলীম আমাদের সময়কে বলেন, আইন অনুসারে শক্ত ভূমিকা রাখা দরকার ইসির। এখনকার সরকার অনেকটাই কেয়ারটেকার সরকার। আগে দেখেছি,

তফসিল ঘোষণার পর সবাই শান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার ইসির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরেও অভিযোগ পড়ছে। ইসির বিরুদ্ধে দলগুলোর মধ্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ, ইসির সামনে অন্দোলনÑ এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ইসিতে শক্ত হতে হবে। পাশাপাশি দলগুলোরও এগিয়ে আসতে হবে ইসিকে সহযোগিতা করার জন্য। মোট কথা, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশনকে আরও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধেও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে এবং জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিত রাখায় সর্বশেষ সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ আসন্ন এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি দলের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক জোটও হয়েছে। কার্যত, বিএনপি ও জাতায়াত নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে এসব দল ও জোট পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে। গত রবিবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাক্ষাৎকালে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তারা একটি দলের পক্ষ নিয়ে ‘ন্যক্কারজনক’ কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া ইসির কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বিষয়ে একটি দলের প্রধানকে নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন, আমরা নির্বাচন কেন্দ্র করে ভিন্ন চিত্র দেখছি, এসব বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। একটি দল থেকে ইসিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে সব দলের জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। একই দিন রাতে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য রাজনৈতিক দল বা জনগণের যে আত্মবিশ্বাস অর্জনের কথা ছিল, নির্বাচন কমিশনে তা হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি না, পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে।

এরই মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইসির সামনে গত দুই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। অভিযোগগুলো নিয়ে ইসির আশ্বাসের পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

এদিকে, বিএনপি ও জামায়াতের দিকে নির্বাচন কমিশন ঝুঁকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ তোলেন। নিরপেক্ষতা প্রমাণে নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই নেতা।

এদিকে ইসিতে প্রায় অর্ধশত অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের। বলা হচ্ছে, এসব অভিযোগের বিপরীতে এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ইসি। পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ জমা পড়েছে। জানা গেছে, ঢাকা জেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের বিরুদ্ধে একটি দলকে বিজয়ী করতে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তারের বিরুদ্ধেও ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। এই দুই নির্বাচনী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সহনশীলতাও আবশ্যক।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী আমাদের সময়কে বলেন, প্রত্যেকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে কমিশনের প্রকাশ করতে হবে। নয়তো মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে, ইসি চুপ করে বসে আছে কেন? আচরণবিধি লঙ্ঘণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের শুরু থেকেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সবার মধ্যে আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা থাকলে, পরিবেশ ঠিক করতে না পারলে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা