May 24, 2026, 11:33 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শীতে রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে দ্বিগুণ রোগীর চাপ

স্টাফ রিপোর্টার :-

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী বিভাগজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পুরো বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের। এখানে শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ হলেও বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৫৩৭ জন রোগী। গত এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি ও বহির্বিভাগ– দুই জায়গাতেই দ্বিগুণের বেশি রোগী দেখা যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত জটিলতা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রামেকের শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে শয্যা সংকটের পাশাপাশি জনবল ঘাটতিতে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শীতজনিত কারণে আসা রোগীর অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক। প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও শ্বাসকষ্টে ভোগা বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসায় অবস্থা জটিল হয়ে যাচ্ছে।’

শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘ হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশু, বয়স্ক, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের গরম কাপড় ব্যবহার, নিরাপদ পানি পান এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।’

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নাজিপুর থেকে রামেকে চিকিৎসা নিতে আসা মো. স্বাধীন জানান, তার অসুস্থ মাকে ভর্তি করানো হলেও কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঁড়ির পাশে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা রোগীর কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।

রামেকের শিশু বিভাগের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ৫৩ শয্যার বিপরীতে সেখানে বর্তমানে ১৪৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শহীদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশির ভাগই সর্দি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলা হাসপাতালগুলোতেও। বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. নজমুল হক জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৩৭৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল আপগ্রেড হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নেই। মাত্র ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে সেবা চালাতে হচ্ছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মীর সুফিয়ান জানান, ১০০ শয্যার বিপরীতে সেখানে ২২২ জন রোগী ভর্তি আছেন। শিশুদের পাশাপাশি ডায়াবেটিসজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত বুধবার সকাল ৬টায় নওগাঁর বদলগাছিতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিকে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। রাজশাহীতে বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে রাজশাহীতে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা