
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর দুটি আসনে ফলাফল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থীরা।
রাজশাহী-১ ও ৪ আসনের ওই দুই প্রার্থী পৃথকভাবে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ১ হাজার ৮৮৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গতকাল শনিবার তিনি ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।
রাজশাহী-১ এ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট।
এই আসনে মোট ৭ হাজার ৭৮৬টি ভোট বাতিল হয়, যা ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন শরীফ।
তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রে ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে, যা নির্বাচনি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ইঙ্গিত বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন বলেন, “বাতিল ভোট ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর অনিয়ম নিয়ে আমাদের কাছে দলিলভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ডিএমডি জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনের একটি অংশের ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
তার অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটের সঙ্গে ফলাফলের অমিল, পোস্টাল ভোট গণনায় অনিয়ম, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, ভোট গ্রহণের আগে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পরিবর্তন কিংবা তাদের সরিয়ে অসাক্ষরিত ফলাফল প্রস্তুতের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রসহ বাসুপাড়া, দ্বীপপুর, আউচপাড়া, হামিরকুৎসা, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, মাড়িয়া, কাচারী কোয়ালীপাড়া ও গণিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেন এবং লাঠিচার্জে তার পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। বিপরীতে ডিএমডি জিয়াউর রহমান জিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট।
৫ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে ডা. আব্দুল বারী সরদারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।