
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে তীব্র প্রস্তুতি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ায় প্রার্থী ও সমর্থকরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। চারজন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মতে, আসনে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, যিনি ১৯৮৬ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, এবারও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী।
বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই, ধানের শীষ প্রতীকে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ীর কেল্লাবাবুইপাড়া গ্রামে।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মির মো. শাহজাহান ট্রাক প্রতীকে এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটার ও বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দুই প্রার্থী বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮,৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৯৬,৯১০ জন এবং তানোরে ১ লাখ ৭১,৮৭০ জন ভোটার রয়েছেন। পুরুষ ভোটাররা সামান্য কম, নারীরা কিছুটা বেশি।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের লড়াই মূলত মো. শরিফ উদ্দিন ও অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান–এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। জামায়াত প্রার্থী নারী ভোটার ও বাড়ি বাড়ি প্রচারণার মাধ্যমে ভোট সংগ্রহ করছেন, অন্যদিকে শরিফ উদ্দিনের নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং বিএনপির নীরব সমর্থন তাকে শক্তিশালী করছে।
নির্বাচনের মাত্র ১৬ দিন বাকি, এবং সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে। এখন শুধু অপেক্ষা রাজশাহী-১ আসনে ভোটাররা কাকে বেছে নেন।