May 24, 2026, 11:33 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীতে ৮৭ বছর বয়সে ডাকাতি মামলার আসামি এক বৃদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :-

তাঁর নাম সিরাজুল ইসলাম। বয়স প্রায় ৮৭ বছর। লাঠিতে ভর করে এখনো আস্তে আস্তে চলাচল করতে পারেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগর মেজিস্ট্রেট আদালতের সামনেও লাঠিতে ভর করে হাটাহাটি করছিলেন। কিছুক্ষণ হেটেই বসে পড়লেন আদালতের বারান্দায় রাখা বিচারপ্রার্থীদের জন্য বসার চেয়ারে। আরেকজন বিচারপ্রার্থীকে অনুরোধ করে সেই চেয়ারে বসে পড়লেন সিরাজুল ইসলাম।

কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ডাকাতি মামলার আসামি। প্রতিবেশী ইমাম হাসান নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো আমাদের পরিবারের লোকজনের। সেই ঝামেলার সূত্র ধরে ইমাম হাসান গত বছরের ১০ আগস্ট বাদী হয়ে আমাকেসহ চারজনকে আসামি করে নগরীর রাজপাড়া থানায় ডাকাতি ও বাড়ির আসবাবপত্র লুটপাটের মিথ্যা মামলা করেছেন। ধারা দেওয়া হয়েছে ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৪২৭/৫০৬ ও ১১৪। অথচ এই ধরনের ঘটনায় ঘটেনি। কিন্তু এই বয়সে শরীরই যেখানে ঠিকমতো চলে না, সেখানে আদালতে আসতে হচ্ছে মামলার হাজিরা দিতে।’

আশীতিপর বৃদ্ধ সিরাজুল বলেন, ‘এবার দিয়ে তিনবার আসলাম। তিন-চার মাস আগে মামলা করেছিলো প্রতিবেশী। যদিও তিনি পরে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আমাদের নামে মামলা করেছেন। কিন্তু মামলা তো চলমান হয়েছে। তাই আদালতে আসতে হচ্ছে।’

তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়া এলাকায়। তার এক ভাগ্নের নামেও মামলা করা হয়েছে। তার বয়স ষাট বছরের ওপরে। দুই মামা-ভাগ্নে আদালতের বারান্দায় পাশাপাশি বসেছিলেন। ভাগ্নে মেজবাউল হক বলছিলেন ‘এই বয়সে আমরা ডাকাতি করতে যাবো। মামাসহ আমাদের নামে কখনো জিডিও ছিলো না আগে। আর সেই আমরাই হলাম ডাকাতি মামলার আসামি। এখন বৃদ্ধ বয়সে সেই মামলায় হাজির হতে হচ্ছে!’

এই মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আদালতও এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে মনে করেন না। সেই কারণে আসামিদের সহজেই জামিন দিয়েছেন। কিন্তু মামলা যেহেতু বিচারাধীন আছে, সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো আসামিদের হাজিরা দিতেই হয়। তাই বয়স ৮৭ বছর হলেও সিরাজুল ইসলামকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা