
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী–নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী–নাটোর মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়ার দিকে যাওয়ার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজন পুরুষ ও একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ওই নারী ও পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের মরদেহ বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন পুঠিয়ার আটভাগা এলাকার ময়নুল ইসলামের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৫), সিংহপাড়ার মুশা মণ্ডলের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এরশাদ আলীর ছেলে রিফাত হোসেন (৩০), একই উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে রুহুল আমিন (৪০) এবং দুই শিশু। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, পুঠিয়া থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আরও ছয়জন আহত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাজশাহী–নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। রাত ৮টা পর্যন্ত যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এবং পবা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ওই মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। তারা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।