
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতীক বরাদ্দ স্থগিতের দাবি তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ ও দমন-পীড়নের সাথে যুক্ত ছিল। এ অবস্থায় দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ না দিলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা রাজশাহী জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে কার্যক্রম স্থগিত) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে নাহিদুল ইসলাম বলেন, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বদলে কমিশনের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণ জনআস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তাঁর অভিযোগ, আইন লঙ্ঘন করে ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টিকে বিগত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান সহযোগী’ উল্লেখ করে নাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন খুনিকে যেমন অপরাধী বলা হয়, তেমনি খুনির সহযোগীকেও একই অপরাধের দায় নিতে হয়।
তাঁর দাবি, অতীতে সংঘটিত দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের দায় জাতীয় পার্টিকেও বহন করতে হবে। এ কারণে দলটির মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবস্থানে থাকা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও দেশবিরোধী চক্রান্তে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনগণ রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
নাহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় পার্টির প্রতীক বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দাবি উপেক্ষিত হলে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
এর আগে গেল ২১ জানুয়ারি (বুধবার) রাজশাহীতে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন নাহিদুল ইসলাম। তবে ওই দিন রিটার্নিং কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত থাকলেও কিছু মহল প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে; অন্যথায় একটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ দায় কমিশন এড়াতে পারবে না।