
হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে রাজশাহীর মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের বেড়েছে দুর্ভোগ। বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়ষ্করা। তীব্র শীতের কারণে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি সময় কাজ করতে পারছেন না। একারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
গত সপ্তাহের শুরুর দিক থেকে শিক্ষানগরী রাজশাহী এবং পাশের উপজেলাগুলোতে তীব্র শীত পড়েছে। তবে গত তিন থেকে চার দিনে শীতের তীব্রতা আরও বেশি। সকাল থেকে দিনভর সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও সেটি দীর্ঘক্ষণ থাকে না। সোমবার রাজশাহীতে সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এছাড়া কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া।
ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে চরম অনিশ্চিত ও কষ্টকর। ভোরের আলো ফোটার আগেই মহানগরীর স্বচ্ছল মানুষ গরম পোশাক পরছেন। কিন্তু ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরোনো কাপড়, পলিথিন কিংবা বস্তা গায়ে জড়িয়ে ঠান্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে ব্যর্থ চেষ্টায় শীতে কষ্ট পাচ্ছেন।
মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ছিন্নমূল মানুষজন দলবেঁধে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে শীত থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের দেওয়া পুরোনো কাপড়ই তাদের একমাত্র ভরসা। শীত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। মানবিক উদ্যোগ ও সংগঠিত সহায়তা ছাড়া এ মানুষগুলোর শীত পার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেললাইনের ধারে বসবাসকারী আম্বিয়া বেগম নামে একজন নারী বলেন, গরমের সময় যেখানে সেখানে পড়ে থাকা যায়। কিন্ত ঠান্ডায় ছোট বাচ্চা নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়েছি। নিজেরা কষ্ট সহ্য করে হলেও থাকছি। কিন্ত ছোট বাচ্চার কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। এখন আমাদের গরম কাপড় দরকার।
রাজশাহী রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, ছিন্নমূল ও পথশিশুরা ঠান্ডার মধ্যে গরম কাপড় ছাড়াই জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। কেউ কেউ পলিথিন ও ছেঁড়া চাদর গায়ে দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। নুরজাহান খাতুন নামে একজন বৃদ্ধ নারী বলেন, আমি পেটের দায়ে এই শহরে ভিক্ষে করি। এখন ঠান্ডার কারণে ভিক্ষে করতে বের হতে পারছি না। আমাদের গরম কাপড় দরকার।
মহানগরীর হড়গ্রাম এলাকায় আনারুল ইসলাম নামের এক রিকশাচালক বলেন, অন্য সময়ে ভোর হলেই রিকশা নিয়ে বের হই। কিন্ত শীত বেশি পড়ার কারণে আগের মতো বের হতে পারছি না। কোনোমতে বের হলেও রাস্তায় বেশি সময় থাকতে পারছি না। শীতের কারণে খুব সমস্যার মধ্যে পড়েছি। আবার বের না হলেও ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে পারব না।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার তাপমাত্রা ছিলো আরও কম। এদিন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রার পরিমাণ আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, রাজশাহী মহানগর, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় এ পর্যন্ত মোট সাড়ে ২৭ হাজার পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আমরা কম্বল কেনার জন্য ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে দ্রুত কম্বল কিনে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে।