October 28, 2026, 7:35 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

রাজশাহীতে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট

স্টাফ রিপোর্টার :-

রাজশাহীতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেও অনেক ক্রেতা গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পড়েছেন চরম সংকটে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার দেওয়ার পরও নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দোকানগুলোতে গ্যাস আসলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কম থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস সংগ্রহ করছেন। তবে এই বাড়তি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাদের। ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সংসার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাস ছাড়া অন্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ব্র্যান্ডের গ্যাস একেবারেই অনুপস্থিত। বিকল্প কোম্পানির গ্যাস না থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার বেশি দামে কিনছেন। এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চা দোকানের মালিকরা জানান, গ্যাসের এই অস্বাভাবিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার সময় কমিয়ে দেওয়া কিংবা দোকান আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ডিলারদের নীরবতায় সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা