May 24, 2026, 6:51 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

স্পোটর্স ডেস্ক :-

কম রানের পুঁজি নিয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করলেও পেরে উঠল না রাজশাহী।

কয়েক হাজার দর্শক গ্যালারিতে রয়ে গেলেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। দিনের প্রথম ম্যাচের মতো আরেকটি রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির আশাই হয়তো তারা করছিলেন। তেমন কিছুর মঞ্চও ছিল প্রস্তত। তবে এবার আর শেষ বলের ফয়সালা নয়, ম্যাচ শেষ তিন বল বাকি থাকতেই। কম রানের পুঁজি নিয়ে দারুণ লড়াই করলেও পেরে উঠল না রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ফাইনালে উঠল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয়ের শেষ ধাপে পৌঁছে গেল চট্টগ্রাম।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাজশাহীকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন চট্টগ্রামের বোলাররা। চট্টগ্রাম লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তিন বল হাতে রেখে।

আর্থিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে বিপিএল শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলটির পরিচালনার ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় বিসিবি। দারুণ পারফরম্যান্সে সেই দলই সবার আগে পৌঁছে গেল ফাইনালে।

এখানে হেরে গেলেও ফাইনালে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবে রাজশাহী। এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কায় ফেভারিট রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দেওয়া সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

শেষ ওভারে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। রিপন মন্ডলের প্রথম বলে এক রান নেন আমের জামাল। পরের বলে লং অফের ওপর দিয়ে চমৎকার শটে ছক্কা মারেন শেখ মেহেদি। তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

বল হাতে চার ওভারে ২০ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর, ব্যাটিংয়ে ২ ছক্কায় ৯ বলে ১৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ মেহেদিই।

দুপুরে অনুষ্ঠিত এলিমিনেটর ম্যাচের মতো সন্ধ্যায় শুরু এই ম্যাচেও উইকেট ছিল মন্থর। ব্যাটিং করা খুব একটা সহজ ছিল না ব্যাটসম্যানদের জন্য। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর শুরুটাও ছিল মন্থর। সাহিবজাদা ফারহানের দুই চার ও এক ছক্কার পরও প্রথম পাঁচ ওভারে আসে কেবল ২৭ রান। তানজিদ হাসানের রান তখন ১২ বলে ৫।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাহিবজাদাকে (১৯ বলে ২১) ফিরিয়ে ৩০ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম।

রাজশাহীর পরের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

শেখ মেহেদিকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন শান্ত। পরের বলে শূন্য রানে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। আকবর আলি ১০ বল খেলে করতে পারেন ৩ রান।

তানভিরকে ছক্কায় উড়িয়ে গা ঝারা দেওয়ার চেষ্টা করেন তানজিদ। তবে ছক্কার চেষ্টাতেই সীমানার কাছে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার।

পঞ্চদশ ওভার পর্যন্ত উইকেটে থেকে তিন চার ও এক ছক্কায় তিনি করেন ৩৭ বলে ৪১ রান।

শেষের দাবি মেটাতে পারেননি জিমি নিশাম ও রায়ান বার্ল। মির্জা বেইগের অফ স্পিনে রিভার্স সুইপ করে বৃত্তের মধ্যে ধরা পড়ে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন নিশাম।

ওই ওভারেই মুখোমুখি দ্বিতীয় আর তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষের আগের ওভারে তিনি পরপর চার ও ছক্কা মারেন শরিফুল ইসলামকে।

শেষ ওভারের শুরুতে আউট হয়ে যান সাকলাইন। তিন ছক্কা ও দুই চারে তিনি করেন ১৫ বলে ৩২ রান। রিপন মন্ডলের ছক্কায় ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে রাজশাহী।

চট্টগ্রামের হয়ে সাত জন হাত ঘুরিয়ে অন্তত একটি উইকেট পান সবাই। শেখ মেহেদির মতো আমের জামালেরও শিকার ২টি উইকেট।

রান তাড়ায় সতর্ক ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও বেইগ। কোনো উইকেট না হারালেও পাওয়ার প্লেতে আসে কেবল ৩১ রান, প্রথম ১০ ওভারে ৫২।

তিন চারে ৩৮ বলে ৩০ রান করে নাঈম বিদায় নেন দ্বাদশ ওভারে। থামে ৭০ বলে ৬৪ রানের শুরুর জুটি।

ইনিংসের প্রথম ছক্কা আসে পঞ্চদশ ওভারে। রিপনকে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়ান হাসান নাওয়াজ। তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শততম ছক্কা এটি। ওই ওভারেই তিনি ছক্কা মারেন আরেকটি।

জয় থেকে ৩৬ রান দূরে থাকতে থামেন নাওয়াজ (১৪ বলে ২০)। একটি ছক্কার পর আরেকটির চেষ্টায় আসিফ আলি সীমানায় ধরা পড়েন ১১ রান করে।

শেষ দুই ওভারে দরকার যখন ১৯ রান, ১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বল ছক্কায় উড়িয়ে দেন শেখ মেহেদি। পঞ্চম বলে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান বেইগ (৪৭ বলে ৪৫)।

এই ম্যাচের মতো এলিমিনেটর ম্যাচেও শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ৯ রান, শেষ বলে যা দাঁড়ায় ৬ রানে, ছক্কা মেরে দলকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন ক্রিস ওকস। এবার নাটক অতটা জমল না।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৩৩ (সাহিবজাদা ২১, তানজিদ ৪১, শান্ত ৮, মুশফিক ০, আকবর ৩ নিশাম ৬, বার্ল ৩, সাকলাইন ৩২, রিপন ১০, হাসান ১*, বিনুরা ৩; শরিফুল ৪-০-১৬-১, মুকিদুল ২-০-২০-১, তানভির ৩-০-২৩-১, শেখ মেহেদি ৪-০-২০-২, বেইগ ৩-০-২৩-১, জামাল ৩-০-২৭-২, নাওয়াজ ১-০-৩-১)

চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৯.৩ ওভারে ১৩৪/৪ (বেইগ ৪৫, নাঈম ৩০, নাওয়াজ ২০, আসিফ ১১, শেখ মেহেদি ১৯*, জামাল ২*; বিনুরা ৪-০-২৪-১, রিপন ৩.৩-০-৩৩-০, নিশাম ৪-০-২৬-০, সাকলাইন ৪-০-২০-২, হাসান ৪-০-২৬-১)

ফল: চট্টগ্রাম ৬ উইকেটে জয়ী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা