October 27, 2026, 9:37 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

বিলপ্তি প্রায় শিমুল ফুল সৌন্দর্যের সাথে অর্থনৈতিক গুরুত্বও বাড়ায়!

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতি সেজেছে এক নতুন সাজে। মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারিদিক। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানের সাথে ফাগুনের দখিনা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। একদিকে গাছে গাছে পাতা ঝরার খসখস শব্দ, অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন সবুজ পাতা। আমের মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে বসন্ত।

ঋতু পরিক্রমায় বছর ঘুরে বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে শিমুল ফুলের টুকটুকে লাল রঙে। মনে হবে প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। শীতের রিক্ততা কাটিয়ে ফাগুনের আগুনে প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি ও পাতা ঝরার খসখস শব্দ জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। পাতা ঝরা বৃক্ষগুলোর মাথায় দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা, কলি ও ফুল। বসন্তের আগমনে শিমুল গাছে ফাগুনের ছোঁয়ায় চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের ফুল শোভা পাচ্ছে।

এক সময় এ উপজেলায় প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। বসন্ত এলে প্রকৃতি থেকে জন্মানো এ গাছগুলি টুকটুকে লাল রঙের ফুলে ভরে যেত। ফুলে ফুলে প্রকৃতি সাজতো অপরূপ রূপে। সাটারিং মিস্ত্রীদের কাজের জন্য, উন্নয়ন ও সড়ক প্রসস্থকরণের নামে অবাধে কাটা হয়েছে গাছগুলি। তারপরও গ্রামাঞ্চলের শিমুল গাছগুলো এখন সেজেছে বাহারি রঙের ফুলে। মাঘ মাসের শেষে ফাল্গুনের শুরুতে ফুল ফুটে চৈত্র মাসের শেষের দিকে পুষ্ট হয় এ গাছের ফল। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে গিয়ে আপনা আপনিই ফল ফেটে তুলা ও বীজ বাতাসের সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকে আবার নতুন গাছের জন্ম হয়। আবার অনেকে নিজের গরজ থেকেই গাছ রোপণ করে থাকেন।

আরামদায়ক হওয়ার কারণে শিমুলের তুলার চাহিদার সাথে দামও অনেক বেড়ে গেছে। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ৮/১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। শিমুল গাছ ফুল দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এর রয়েছে ঔষধি গুণ। এছাড়াও গাছ বিক্রি করে এককালীন আয় করা সম্ভব। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ কমে গেছে শিমুল গাছ।

 

মহিশালবাড়ী বাজারের লেপ-তোষকের কারিগর ও বিক্রেতা সুলতান আহমেদ জানান, বর্তমানে শিমুল তুলা ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুচিশীল মানুষ লেপ-তোষক ও বালিশে শিমুল তুলাই ব্যবহার করেন।

 

রাজবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানালেন, শীতের একেবারে শেষভাগে এসে ন্যাড়া শিমুল গাছের মঞ্জরিতে কুঁড়ি আসে। ডালটার সারা গায়ে বেঁধে কুঁড়ি বের হয়। তার মানে মঞ্জরি বহুপুষ্পক। ফুলের কুঁড়ি আস্ত একটা সবুজ আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। ধীরে ধীরে সবুজ আবরণ ফেটে বেরিয়ে আসে আসল ফুল। কিন্তু কুঁড়ির ওই সবুজ আবরণ থেকেই যায়। পরিণত হয় সবুজ পাঁপড়িতে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শিমুল গাছ বিভিন্নভাবে আমাদের আর্থিক চাহিদার যোগান দিয়ে থাকে। প্রকৃতি ও ঋতু বৈচিত্র্যের বাহক শিমুল গাছ রোপণে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা