May 24, 2026, 11:34 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রভাবশালীদের দখলে রাজশাহীর চার নদী, অস্তিত্ব সংকটে বড়াল-নারদ

স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীর নদ-নদীতে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাঁশের বেড়া দিয়ে চলছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল ও মাছ চাষ।

শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই কাঙ্ক্ষিত পানি নেই পদ্মার শাখা বড়াল ও নারদ নদের বেশিরভাগ স্থানে। হোজা ও মুসাখান নদীরও একই চিত্র। যেসব স্থানে সামান্য পানি রয়েছে, সেখানেও চলছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল। বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ে এসব নদ-নদীতে নানা প্রকল্প নেয়া হলেও কোনো সুফল মিলছে না। ফলে সেচ সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন নদীপাড়ের কৃষকরা।

রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা থেকে উৎপত্তি হয়েছে বড়ালের। অন্যদিকে, বড়াল থেকে মুসাখান নদের উৎপত্তি। আর নাটোরের পাইকপাড়ায় এই মুসাখান নদ থেকেই নারদ যুক্ত হয়েছে পদ্মার সঙ্গে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে এসব নদ-নদী খনন হলেও এর কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না। পানি না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে বিলীন হয়ে নদীগুলো এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

২০২৫ সালে রাজশাহীর বড়াল নদ বাঁচাতে চারঘাটের স্লুইসগেট অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। পরে তিনটি কপাট খুলে নেয়া হয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, ওই পদক্ষেপে কোনো লাভই হয়নি। এ নদের কোথাও এখন শুধুই হাঁটুপানি, আবার কোথাও সামান্য বিস্তৃতি। অথচ একসময় সারা বছরই ভরা যৌবন ছিল বড়ালের।

এর আগে ২০২৪ সালে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বড়ালের উৎসমুখে খনন করা হলেও শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই নদীটি মৃতপ্রায়। এক হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার আরেক শাখা নারদ নদের ৩৪ কিলোমিটার খনন করেছিল বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেই নদীতেও এখন পানি নেই, মেলে না সেচ সুবিধাও।

বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা মুকুল বলেন, ‘সরকারি টাকা তছরুপ করতেই এই প্রকল্পগুলো নেয়া হয়। নদ-নদীর কোনো কাজে আসে না।’

নদ-নদীর যেসব স্থানে সামান্য পানি আছে, সেখানেও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বড়ালের সঙ্গে যুক্ত হোজা ও মুসাখান নদীরও একই অবস্থা। শুধু নারদ নদেরই অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধ দিয়েছে প্রভাবশালীরা।

পুঠিয়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জোর যার মুল্লুক তার, তেমনি প্রভাব যার নদী তার। প্রভাবশালীরা ইচ্ছেমতো বাঁধ ‍দিয়েছে। এতে নদী খালে পরিণত হয়েছে। নদীর পানি দিয়ে এখন আর কৃষিকাজ হয় না।’

নদীগুলোর বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি খনন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা