May 24, 2026, 11:34 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বৈত নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইসি

ডেস্ক নিউজ :-

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে ঢালাওভাবে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে। এর ফলে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই ডজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে একটি দলের চাপের মুখে ঋণখেলাপিদেরও নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ইসি সেটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ উঠছে। সংবিধানেও বলা আছেÑ বাংলাদেশ বাদে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে একজন ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন, নির্বাচনের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইনে অস্পষ্টতা আছে এবং এর সুযোগ নিয়েই মূলত এবার দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ

করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ কিংবা বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে টানা ৯ দিনের আপিল শুনানির শেষ দিনে রবিবার কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের পর এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। যদিও রবিবার শুনানি শেষে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পক্ষপাতিত্ব করে কোনো রায় তারা দেননি।

রাজনৈতিক চাপ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব

কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি। তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আপিল হয়েছিল। যদিও তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণ হলো তিনি আপিল শুনানিতেই আসেননি। পাশাপাশি কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য তার প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে কমিশন।

যদিও এ দুজন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও অন্তত ২০ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এসেছিল। তাদের কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার। আবার কয়েকজনের মনোনয়নপত্র টিকে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীর পক্ষ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এসেছিল।

কিন্তু গত ১৩ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সাথে সাক্ষাৎ করে। ওই সাক্ষাতের পর তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান যে, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি না করার জন্য বলেছেন তারা।

নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সমস্যা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনের যোগ্য হবেন। আরপিওতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো প্রার্থীর থাকলে, সেটা হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনী হলফনামায় শুধু হ্যাঁ বা না উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য যাবতীয় ডকুমেন্ট দাখিল করতে বলা হয়নি। এ জন্য কিছু রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা অবৈধ করেছেন। তাদের (যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে) প্রার্থিতা বাতিলও হচ্ছে। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান করা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর দুজন একই কারণে বাতিল হয়েছেন। আমরা মনে করি তাদেরও রিভিউ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমরা অনুরোধ করেছি এ নিয়ে যেন জটিলতা সৃষ্টি করা না হয়।

বিএনপি ও নির্বাচন কমিশনের সূত্রগুলো বলেছে, মূলত ওই বৈঠকে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে কমিশনকে নমনীয় হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিল বিএনপি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পর।

এর আগে গত শনিবার মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে করা আপিলের শুনানির সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে রবিবার বিকালেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি তিন দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ছাত্রদল।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন আবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে ওই দিন সন্ধ্যায় দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা আপিলগুলোর একে একে রায় দেওয়া শুরু করে। এতে দেখা যায়, যাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ছিল, তাদের মধ্যে আব্দুল গফুর ভূঁইয়া ও মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ছাড়া বাকি সবার প্রার্থিতা বৈধ করে দেয় কমিশন। এমনকি রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়া দুজন জামায়াত প্রার্থীও তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

ইসির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ করতে নিজেরাই একটা ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে নেন। আর সেটি হলোÑ ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন এবং এ সংক্রান্ত ফি জমা দিয়েছেন, তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হবে। শেষ পর্যন্ত এই নীতি কার্যকর করার কারণেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা কমপক্ষে ২০ প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করল বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম।

এদিকে মনোনয়নের বৈধতা বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে মোট ৪২১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা কিছু প্রার্থীও। রবিবার শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই বলেছেন, মনে কষ্ট নিয়ে তারা ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ছাড় দিয়েছেন।

আবার ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। কিন্তু চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে : নাহিদ ইসলাম

এনসিপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপ, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি এবং আগাম প্রভাব বিস্তারের কারণে কমিশন ক্রমেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিমকোর্টের, নির্বাচন কমিশনের নয়। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনা নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা না থাকলে আসন্ন নির্বাচন বিতর্কিত হবে। তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ঋণখেলাপি যে দলেরই হোক না কেন, আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা