October 27, 2026, 6:44 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

জুলাই সনদে থাকলেও ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী নেই কোনো দলের

ডেস্ক নিউজ :-

জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী রাখার বাধ্যবাধকতার প্রতিফলন নেই এবারের সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির মোট চূড়ান্ত নারী প্রার্থী ১৮ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২০ জন, জামায়াতের নেই একজনও। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় থাকলেও নেতৃত্বের কেন্দ্রে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব কমছে। এ প্রবণতা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জনই নারী। অথচ মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ভোটের মাঠে টিকে আছেন মাত্র ৭৬ জন নারী প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সর্বোচ্চ ৯৪ জন নারী প্রার্থী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ৬৯। ২০১৪ সালে ২৮ আর ২০০৮ সালে ৫৯ জন নারী অংশ নেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের মাঠে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই। অথচ জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাস্তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মাত্র দুজন থাকলেও জামায়াত থেকে নেই একজনও। আর বিএনপিতে ১০ জন ও জাতীয় পার্টির ৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন। তবে সেই তুলনায় স্বতন্ত্র ২৪৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই নারী।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্ম—এই যে উপাদানগুলো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তার হাতে আমাদের নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জিম্মি দশায় আছে।’

বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্ষমতায়নে সুযোগ বাড়লেও রাজনীতির কেন্দ্রে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমছে। বেড়েছে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, সীমিত হচ্ছে তাঁদের কর্মপরিধিও।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ‘কর্মঘণ্টাকে নাকি সীমায়িত করে দেওয়া হবে—এই যে বক্তব্যটা, এটাই মনে করিয়ে দেয় বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া, আপনি সেই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হয়ে দাঁড়াছেন। অর্থাৎ আপনি নারীকে সীমায়িত করার চেষ্টা করছেন।’

নির্বাচন কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে যে ধরনের কাঠামো থাকা প্রয়োজন, আমাদের দেশে তা নেই। তৃণমূল বা মাঠপর্যায়ে যখন তাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে উঠে আসেন, তখন তাঁদের উইমেন্স উইংয়ের (নারী শাখা) মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়। মূলধারার কাঠামোতে তাঁদের আসতে দেওয়া হয় না।

বড় রাজনৈতিক দলগুলো মোটে ১৮ জন নারী প্রার্থী দিলেও সে তুলনায় এগিয়ে আছে বাম ধারার সংগঠনগুলো। গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ ও সিপিবি মিলে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে ২০ জন নারী প্রার্থীর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা