October 28, 2026, 5:14 pm
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

চারঘাটে পেনশনের টাকা না পেয়ে অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় অফিস সহকারীর মৃত্যু

চারঘাট প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর চারঘাটে পেনশনের টাকা না পেয়ে চরম অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় ফহিম উদ্দীন (৬৫) নামের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী এক চাকুরীজীবির করুন মৃত্যু হয়েছে। ফহিম উদ্দীন চারঘাট উপজেলার মুংলী গ্রামের মৃত- শেকের মন্ডলের ছেলে ও অনুপমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার তিনি মৃত্যুর কাছে হার মেনে চলে যান না ফেরার দেশে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাঁর চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়। চাকুরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি ডায়াবেটিকস, হাইপ্রেসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কলেজ পড়ুয়া দুইসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সম্বল পেনশনের টাকায় নিজের চিকিৎসাসহ সন্তানদের নিয়ে জীবনের শেষ সময় ভালো ভাবে পার করবেন বলে আশায় বুক বেধেছিলেন।

আশায় বুক বাধা পেনশনের সেই টাকা জোটেনি হতভাগ্য এই ফহিম উদ্দিনের ভাগ্যে। প্রায় পোনে দুই বছর অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি পড়েনি ফহিম উদ্দিনের দিকে। অসুস্থ হয়ে অর্থাভাবে না জোটতো ঠিকমত খাওয়া দাওয়া, না পেতেন সুচিকিৎসা নিতে। উপর মহলে বিষয়টি অভিযোগ করেও কোন সুরাহ না হওয়ার ফলে মানবতার জীবনযাপন করছিলেন অফিস সহকারী ফহিম উদ্দীনসহ তার পরিবার। এদিকে উন্নত চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ’ থাকা অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান এই অবসরপ্রাপ্ত অফিসসহকারী।

অবসর প্রাপ্ত অফিস সহকারীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সারা জীবন আমার স্বামী সততার সঙ্গে স্কুলের দায়িত্ব পালন করে আসলেন। জীবনের শেষ সময়ে পেনশনের টাকা না পেয়ে আমার স্বামী বিনা চিকিৎসায় বিছানায় পড়ে ধুকে ধুকে মারা গেলেন। এখন দুইজন কলেজ পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে আমি চরমকষ্টে আছি। কবে নাগাদ স্বামীর পেনশনের টাকা পাব আল্লাহ জানেন।

এ ব্যাপারে অনুপমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদন করা রয়েছে। তিনি অসুস্থ ও পেনশনের টাকাটা না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষক সমাজের জন্য কঠিন একটি বিষয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপার ভাইজার রাহেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমাদের কোন হাত নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার কথা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা