
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভাসমান দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাদের নেতৃত্বে মধ্যরাতে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে সূর্যসেন হল, মুহসিন হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘একশন, একশন, ডাইরেক্ট একশন’, ‘চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন’ এবং ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’—এমন নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় প্রমাণিত হয় যে এর আগেও বহুবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, টিএসসি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, নীলক্ষেত ও মেট্রোরেলের নিচের এলাকাগুলোতে নিয়মিত চাঁদাবাজি হচ্ছে।
তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, নিজ নিজ দলের চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ না করলে শিক্ষার্থীরাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানান।
আরেক শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম যুবা বলেন, আগে উচ্ছেদ অভিযানের সময় কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থী সেজে আন্দোলনে অংশ নিলেও এখন তাদের চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকতে দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলো যেন তাদের বহিষ্কার করে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।