
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদকাসক্ত যুবক সুজন আলী (২৮) মাদক সেবনের জন্য টাকা না পাওয়ায় নিজের মা ও বোনকে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে মা শরীফা বেগম (বৃদ্ধা) ও বড় মেয়ে ডালিয়া (৩৫, গর্ভবতী) ইটের আঘাতে মাথা ফেটে গুরুতর অবস্থায় গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
স্থানীয়রা জানায়, সুজন নিয়মিত হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক গ্রহণ করে এবং মাদক কেনার টাকার জন্য পরিবারকে নিয়মিত মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসছিল। এর ফলে তার স্ত্রীও সন্তান নিয়ে পরিবারের বাইরে চলে গেছেন। মা-মেয়ের বরাত অনুযায়ী, সুজন তাদের ওপর হুমকি দিয়ে বলত, টাকা না দিলে “তাদের মেরে ফেলবে”।
ডালিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, “আমি গর্ভবতী, কবে জানি আমাদের মেরেই ফেলবে। আমাদের আর রেহাই নেই।” মা শরীফা বেগম জানান, “আমি ধার-দেনা করে ছেলের মাদক কেনার টাকার ব্যবস্থা করলেও আর সহ্য করা যাচ্ছে না। সে আমার উপর প্রতিদিন ঝগড়া করে, মারধর করে, সব ভেঙে দেয়। আমি চাই, আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।”
পরিবারের অভিযোগ, সুজনকে ধরার জন্য আগেও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। মাস ছয়েক আগে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরে প্রতিদিন সকাল-বিকাল মাদক টাকার জন্য তাকে অত্যাচার চালাতে দেখা গেছে।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, ভুক্তভোগী মা ও মেয়েরা চাইলে থানায় এসে আইনি পরামর্শ নিতে পারবেন এবং আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন, কারণ সুজনের মাদকাসক্তি ও বাড়িতে হিংস্র আচরণ তার পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।