October 27, 2026, 11:01 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

খুলনায় এনসিপি নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ৩ জন কারাগারে

ডেস্ক নিউজ :-

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা পরিচয়ে ২০ লাখ চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার পুলিশ তাঁদের আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। আজ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে সোমবার নগরীর সোনাডাঙ্গা নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভীন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মিরাজুল ইসলাম ওরফে মাহাদী হাসান, আরেফিন আল নাহিন ও মিরাজ গাজী ওরফে বোরহান। এর মধ্যে মো. মিরাজুল ইসলাম নিজেকে এনসিপির জেলা শাখার সদস্য পরিচয় দেন, আর আরেফিন আল নাহিন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র এবং শাখা ছাত্রদল বর্তমান কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন বাদী শাহানাজ পারভীন সোনাডাঙ্গা নেছার উদ্দিন সড়কের বউ বাজার এলাকার পঞ্চম তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকেন। ওই বাড়িতে তিনি অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সপরিবারে বসবাস করেন। সোমবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে আসামি মো. মিরাজুল ইসলাম, মিরাজ গাজী এবং আরেফিন আল নাহিন বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন।

১০ মিনিট পরে একই উদ্দেশ্যে ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনধিকারে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের খুলনা জেলা এনসিপির সদস্য বলে পরিচয় দেন। মামলার ১ নম্বর আসামি মিরাজুল ইসলাম বাদীর বাবা এস এম শফিকুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে মোবাইল থেকে একটি ছবি বের করেন এবং বলেন শফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগ করতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মিরাজুল ইসলাম তাঁদের জানান, ‘আমাদের এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নির্দেশে আপনাকে চাঁদা দিতে হবে’ বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি থানাকে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়।

এদিকে গ্রেপ্তার মো. মিরাজুল ইসলাম এনসিপির কেউ নন বলে জানান দলের জেলা সমন্বয়কারী মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, আটক ব্যক্তিরা এনসিপি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কমিটিতে নেই। অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে অর্ধডজন মামলা নিয়ে যুবলীগ সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অবস্থানের পরও পুলিশ কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি—সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতা জানান, গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার ওই তিনজনকে একটি কাজ আছে বলে তাঁদের এক বন্ধু সেখানে ডেকে নিয়ে যান। যাওয়ার পর তাঁদের তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। চাঁদা দাবির বিষয়টি নাটক বলে দাবি করে মামলাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা