May 24, 2026, 6:00 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘আলু চাষ করে আমরা পাপ করেছি’- দামে ধস, বিপাকে জয়পুরহাটের আলুচাষীরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি :-

জয়পুরহাটে এবারের আলু চাষে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। মাঠে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় আর্থিক লোকসান সামলাতে পারছেন না তারা। বিক্রির সময় কৃষক ঠিক মূল্য না পাওয়ায় ভালো ফলনকে ঠিক সাফল্য হিসেবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে প্রচুর আলুর সরবরাহ, সংরক্ষণ খরচের বৃদ্ধি এবং আলু ব্যবসায়ীদের চাপ চাষিদের বিপদের দিকে ধাবিত করছে।

জয়পুরহাটের স্থানীয় আলুচাষি মোয়াজ্জিম হোসেন জানান, আমার ১৭০ মন আলু হয়েছে। বিক্রি করেছি ৩০–৪০ হাজার টাকায়। মজুরীর খরচ বাদ দিলে হাতে কিছুই থাকছে না। পুরো টাকাই লস হচ্ছে।

আলুচাষি সাহেব জামাল বলেন, আলু আবাদ করে আমরা যেন পাপ করেছি। এবার আলু নিতেও কেউ আগ্রহী নয়। প্রতি বিঘা মজুরীর খরচ ৮–৯ হাজার টাকা। তারপরও ব্যবসায়ীরা ঠিক দাম দিচ্ছেন না। আলু নিয়ে যেয়ে পরে বিক্রি করে টাকা দিতে চায় তারা।

স্থানীয় আলুচাষি সুমন্ত চন্দ্র প্রামাণিক জানান, বিঘায় খরচ হয়েছে ৩০–৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। প্রতি বিঘায় ১৫–২০ হাজার টাকা লোকসান। কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা খুবই কষ্টকর।

কৃষকরা আরও জানান, জয়পুরহাটে আলুর বাজার পরিস্থিতি এমন খারাপ যে অনেক ব্যবসায়ী আলু কিনেও সময়মতো টাকা দিচ্ছেন না। সরবরাহ বেশি থাকলেও বাজার দর কমে যাওয়ায় উৎপাদনের আর্থিক সাফল্য নাই।

ছাইফুল ইসলাম বলেন, এ দামে কৃষক আলু কোল্ড স্টোরে রাখবে না। ব্যবসায়ীরা কিনে রাখতে পারেন। কিন্তু ভাড়া বেড়ে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়, বস্তার দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। আমাদের আর বাঁচার উপায় নেই।

জাহিদ হোসেন জানান, প্রতি শতকে আলুর খরচ ১৫০০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। কীভাবে লোকসান পূরণ করব? তাই এখনো আলুই তুলিনি!

মিলন চন্দ্র মহন্ত বলেন, গত বছর আলু কোল্ড স্টোরে রেখে লস হয়েছিল। এবার আবার আশা করে চাষ করেছি। কিন্তু দাম নেই। নতুন সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আমরা হয়তো বাঁচতে পারব।

বর্তমানে সাদা আলুসহ বিভিন্ন জাতের আলু প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, আর গ্যানোলা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। চাহিদার অভাব ও সিন্ডিকেটের কারণে এই আকস্মিক দরপতন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। চাষিরা বলছেন, সরকারিভাবে আলু রপ্তানি করা গেলে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না।

জয়পুরহাটে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজার, সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে কৃষকেরা উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা আশা করছেন, না হলে কৃষকরা সামনে বছর থেকে আর আলু চাষ করবেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, “জেলায় এবারে মোট ৩৯,৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যদি আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করা যায়, চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরকারের জন্যও বড় পরিমাণ রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা