May 24, 2026, 8:20 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইসিইউ না পেয়ে ১৪ দিনে ৪৪ শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার :-

আইসিইউয়ের অপেক্ষায় থেকে থেকে দুই সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মার্চ মাসের ১০ তারিখ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসব শিশু আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মারা যায়।

তিনি জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ বেডের একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বেড প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীদের জন্য, ১৬ টি বেড জেরিয়াট্রিক ও ১২টি বেড শিশুদের জন্য নির্ধারিত। এই ১২টি বেড আবার আবার অনুমোদনহীন। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করা হয়েছে।

‎তিনি জানান, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কোনো হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ ওয়ার্ড না থাকায় সেসব জায়গায় থেকে সিরিয়াস রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তির রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। ফলে আইসিইউ ওয়ার্ডে সবসময় বাড়তি চাপ লেগেই থাকে। ১২টি বেডের জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী সিরিয়ালে থাকে। আজও ৪৮ নম্বর পর্যন্ত রোগী আইসিইউতে ভর্তির জন্য সিরিয়ালে ছিল। আইসিইউতে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান সব রোগীরাই সংকটাপন্ন অবস্থা হয়ে থাকে। ফলে কাউকে বাদ কাউকে আগে সিরিয়াল দেওয়ার সুযোগ নাই। আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান এসব রোগীদের মধ্যে থেকেই প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছেে। আইসিইউতে ভর্তি করা গেলে হয়তোবা তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো। এজন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নাই।
আরও পড়ুন: শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি ঘুমাতে পারি না: জ্বালানিমন্ত্রী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ব্যাপক আইসিইউ সংকট রয়েছে। এ হাসপাতালে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলো থেকে রোগী এসে ভর্তি হওয়ায় চাপ তৈরি হয়। আমরা সক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি সেবা দিয়ে থাকি। গতকাল বুধবার হাসপাতালের দুইটি ইউনিট নিয়ে শিশু রোগীই ভর্তিই ছিল ৭৫০ জন। অথচ দুই ইউনিটে শিশুদের বেড সংখ্যা মাত্র ১৬০ টি। এই ব্যাপক সংখ্যক রোগীর ৫ শতাংশও আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আইসিইউতে ভর্তির দরকার হয়। অথচ শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা আছে মাত্র ১২টি। আবার আইসিইউ এমন জায়গা যেখানে একবার ভর্তি হলে অবস্থার উন্নতি না হলে কিংবা মৃত্যু না হলে বের করা যায় না। তবে আমরা এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। হাসপাতালের নতুন আরেকটা পাঁচতলা ভবনে ৫০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স ভবন তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র জনবল আর সরঞ্জামাদি পেলে আমরা আইসিইউ সুবিধা চালু করতে পারি। প্রাথমিকভাবে ২০ শয্যার নিউ বর্ন শিশুদের জন্য এনএইচসি আইসিইউ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জনবল ও সরঞ্জামাদি পেলেই দ্রুত তা চালু করা হবে। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এসব বিষয় উপস্থাপন করেছি।’

এদিকে নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২ বেডের আইসিইউ সুবিধাসহ ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি জনবল ও সরঞ্জামাদির কারণে এখনো চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ রয়েছে নগরবাসীর। তারা মনে করেন, দ্রুত এই হাসপাতালটি চালু করা গেলেও শিশুদের অকালে ঝরে পড়া থেকে বাঁচানো সম্ভব হতো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা