October 28, 2026, 6:33 pm
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

দেড় কিলোমিটারের দুর্ভোগে থমকে গেছে জীবনজীবিকা

চারঘাট প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর চারঘাট বাজারে স্টেশনারি দোকানের আয়েই সংসার চলত রাজু আহমেদের। কিন্তু বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে হারান দোকানঘর। এরপর বাজারে নতুন করে দোকান না পেয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

রাজুর মতো একই দুর্দশায় পড়েছেন চারঘাট ও বাঘা উপজেলার পরিবহন চালক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় স্থানীয়দের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলার মানুষের চলাচলেও তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।

তিন দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশের কাজ। অথচ বাকি সাড়ে ৫২ কিলোমিটার সড়কের কাজ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে রাজশাহী শহরের যোগাযোগ স্থাপনকারী এ মহাসড়ক দিয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই দেড় কিলোমিটার অংশে সৃষ্টি হওয়া প্রতিবন্ধকতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুঠিয়ার বানেশ্বর থেকে চারঘাট-বাঘা-লালপুর হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৪ ফুট চওড়া করা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২০ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

পরবর্তী সময়ে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চারঘাট ও বাঘা বাজারের দেড় কিলোমিটার অংশ বাদে পুরো সড়কের কাজ শেষ হয়। সাতটি প্যাকেজে সাতজন ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করেন। গত ২০ মার্চ সড়ক বিভাগ চারঘাট ও বাঘা উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার অংশে আরসিসি ঢালাই সড়ক, ড্রেন ও আলোকায়ন নির্মাণে প্রায় ২২ কোটি টাকার চুক্তি করে শামীম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু অধিগ্রহণ করা জমি ফাঁকা না থাকায় ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানায় যে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। কাজ শুরুর কিছুদিন পরই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৩০ জুনের পর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও গর্ত রেখেই কাজ বন্ধ রয়েছে। অধিগ্রহণ করা জমি এখনও পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি। ফলে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনও কখনও এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

চারঘাট বাজারের জমির মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, শতাধিক ব্যক্তির জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। টাকা পেয়েছে মাত্র ১০-১৫ জন। আমরা জনদুর্ভোগের কথা ভেবে কাজের অনুমতি দিয়েছিলাম। এখন দোকান-ঘর ভেঙে রেখে গেছে, কিন্তু কাজ করছে না। বাঘা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, বাজারের বাইরে রাস্তা ভালো, কিন্তু বাজারের ভেতর হাঁটুপানি আর ধুলাবালি। কয়েক বছর ধরে ব্যবসা প্রায় বন্ধ।

রূপপুর-রাজশাহী রুটের বাসচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এই দেড় কিলোমিটারের জন্য আমাদের ৫০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। যাত্রী আর চালক দুপক্ষই নাজেহাল। চারঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, চারঘাট ও বাঘাকে দেখলে মনে হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর। দোকান ভাঙা, রাস্তা খোঁড়া, কাজ নেই, ক্রেতা নেই।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চারঘাট উপজেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণ শেষ না করেই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খুঁটি এখনও রাস্তার মাঝখানে। চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জেলার সব সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ান করিম বলেন, অধিগ্রহণ করা জায়গার কিছু ভবন এখনও রয়েছে। সেগুলো অপসারণ করে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে। ১৯ কোটি টাকার সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা