May 24, 2026, 8:28 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আদমদীঘিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি :-
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবুর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবুর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১৭ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হক আবু ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং দুই মেয়াদে নৌকার প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর ছত্রছায়ায় তিনি পুরো ইউনিয়নে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকাকালীন নজিরবিহীন নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়েছেন। এর মধ্যে অন্তাহার দাখিল মাদ্রাসায় তিনটি নিয়োগে ৩৫ লাখ, অন্তাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগে ৯ লাখ, ছাতিয়ানগ্রাম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি নিয়োগে ৪৮ লাখ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ লাখ এবং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি এবং ওয়ান পার্সেন্ট বরাদ্দের উন্নয়নমূলক কাজ নামমাত্র করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, তৎকালীন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) টুকটুক তালুকদারের সাথে সুসম্পর্ক ব্যবহার করে ছোট আখিড়া মাদ্রাসা এলাকায় অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪টি ঘর নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ইউএনও কোনো পরিদর্শন ছাড়াই এসব প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর করে দিতেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ সুবিধা দিতেন।

চেয়ারম্যান আবুর বিরুদ্ধে খাস পুকুর ইজারা নিয়ে সাব-লিজ দেওয়া, গ্রাম্য সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং নির্বাচনের আগে জর্দার কৌটা দিয়ে ‘ককটেল নাটক’ সাজিয়ে বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নামে নাশকতা মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ইউনিয়ন এলাকায় তিনি একটি ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি একাধিক এলাকায় বাড়ি ও ব্যাংকে কোটি টাকা জমা করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবু বলেন, ‘আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য একটি পক্ষ এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে। নিয়োগের সময় সব জায়গায় আমি সভাপতি ছিলাম না।’
তৎকালীন ইউএনও ও বর্তমান এডিসি টুকটুক তালুকদার বলেন, ‘আমি সব কাজ নিয়ম মেনেই করেছি এবং প্রকল্প পরিদর্শন করেই বিল দিয়েছি।’

দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা