October 27, 2026, 2:48 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার :-
সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও কক্সবাজারের টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারি জামাল উদ্দিন।
সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও কক্সবাজারের টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারি জামাল উদ্দিন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানাকে ঘিরে মাদক কারবার, সীমান্তভিত্তিক সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারি জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টেকনাফ থেকে আসা মাদকের বড় বড় চালান বিভিন্ন কৌশলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পৌঁছায়। পরে গোদাগাড়ীকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নেটওয়ার্কে চেয়ারম্যান সোহেল রানার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানার বাবা মজিবুর রহমানকে (৫৪) হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছিল রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত বছরের মে মাসে তার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়। মজিবুর রহমান উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের উজানপাড়া গ্রামের মৃত আয়েশ উদ্দিনের ছেলে।
গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ও নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সোহেল রানা। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ২০১৭ সালে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় তিনি কারাগারেও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মারামারির একটি মামলার তথ্যও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় গ্রেপ্তারের আতঙ্কে সোহেল রানা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক শক্তির কারণে তিনি এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোহেল রানার বাবা মজিবুর রহমান এক সময় বাসচালক ছিলেন এবং সোহেল রানা নিজেও প্রায় ১৫ বছর আগে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তার বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করে, সোহেল রানার মামা মহিশালবাড়ীর গোলাম রাব্বানীকে এক কেজি হেরোইনসহ বিজিবি গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া তার শ্যালক সবুজও এক কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, এসব মাদক কারবারের সঙ্গে সোহেল রানার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা রাজশাহী নিউমার্কেটে ‘বিগ বাজার’ ও ‘শ্রাবণ ফ্যাশন’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়া নগরীর একটি অভিজাত প্লাজায় ফ্ল্যাট কিনে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ওই ভবনে কাপড়, কসমেটিকসের দোকান ও ফুড কর্নারেও তার ব্যবসা রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, সোহেল রানার চারটি ট্রাক, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গোদাগাড়ী এলাকায় অন্তত ২০ বিঘা জমি রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী নগরীতে একটি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গোদাগাড়ী সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গোদাগাড়ী সীমান্ত ও মাটিকাটা ইউনিয়নকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে রক্ষা করতে হলে টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী পর্যন্ত সক্রিয় মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে মির্জা আব্দুস সালাম বলেন সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা আওয়ামী লীগের দোসর। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা আছে আমরা তাকে গ্রেফতারের করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা