October 27, 2026, 3:07 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার :-

রাজশাহীতে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে হামসহ ১০ ধরনের টিকা দ্রুত সংগ্রহের লক্ষে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘রাজশাহীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সব শিশুর মৃত্যু শুধুমাত্র হামের কারণে হয়নি; অনেকেই অন্যান্য জটিল রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ও ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—টিকাদান জোরদার, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসোলেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনবল সংকট নিরসন।

টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব জানান, হামসহ মোট ১০ ধরনের টিকা সংগ্রহে সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং এ অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেশে পৌঁছাবে এবং হাতে পাওয়া মাত্রই সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি। সেই ঘাটতি পূরণে এবার বৃহৎ পরিসরে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে, যাতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব কমে আসে।’

হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ১২০০ শয্যার রামেক হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হামে আক্রান্ত নয় এমন জটিল রোগীদের নিকটবর্তী বিকল্প হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগীদের জন্য আইসোলেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, অতিরিক্ত শয্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীতে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে শিশু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের স্বস্তি আসবে এবং রামেক হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে দ্রুত জনবল বাড়ানো হবে। দক্ষ জনবল ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এছাড়া হাসপাতালের সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম এবং শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা