
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) প্রথমবারের মতো চালু করেছিল ট্রেন যাত্রী সহায়তা কার্যক্রম। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের লাগেজ বহন, সহায়তা প্রদান ও সার্বিক সেবা নিশ্চিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছে রাসিক প্রশাসন।
রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই কার্যক্রমটি যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দেওয়ার পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাসিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ঈদের আগে ও পরে মোট ৯ দিনব্যাপী পরিচালিত এই সেবা কার্যক্রম শেষ হয় আজ ২৮ মার্চ। এই সময়ে প্রতিদিন তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ জন শ্রমিক। তারা রেলওয়ে কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। এই কার্যক্রমের আওতায় ট্রেনে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের লাগেজ ও আসবাবপত্র বহনে সহায়তা, যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধ এবং সার্বিক যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও পরিবারসহ ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য এই সেবা ছিল অত্যন্ত কার্যকর। ঈদের ব্যস্ত সময়েও বিনামূল্যে এমন সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। ঢাকাগামী যাত্রী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, পরিবারসহ ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত লাগেজ সামলাতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তখন সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা এগিয়ে এসে ব্যাগগুলো ট্রেনে তুলে দেন।
এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা ছিল। বেসরকারি চাকরিজীবী সুমি খাতুন বলেন, বিনামূল্যের এই সেবা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ঈদের সময় এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ভোগান্তি অনেক কমিয়ে দেয়। ভবিষ্যতেও এমন সেবা চালু থাকুক এটাই প্রত্যাশা। আরেক যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমবারের মতো এমন সেবা পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। কর্মীদের কিছু পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা তা নেননি। বরং বলেছেন, প্রশাসকের নির্দেশে এই সেবা পুরোপুরি বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। আমরা নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে দেখি। মানুষের যাত্রাপথ কিছুটা সহজ করতে পারলে সেটিই আমাদের বড় প্রাপ্তি। তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রমটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি নিয়মিত চালু রাখা হবে কিনা, তা নির্ভর করবে জনগণের চাহিদা এবং রেলওয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কুলি ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।