October 27, 2026, 2:49 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

মৌসুমের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

স্টাফ রিপোর্টার :-

রাজশাহীতে এবার মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হয়েছে ১৭ দশমিক ৭৫ টন। কৃষি অফিসের জরিপ বলছে, এ পেঁয়াজ থেকে এবার জেলায় আয় হবে অন্তত ৬শ’ কোটি টাকা। তবে মাঠের বাস্তবতায় পেঁয়াজের দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাতে লাভের মুখ তো দূরের কথা বিনিয়োগের টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় সারের দাম কমানো এবং পেঁয়াজ আমাদনি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ তাদের।

পুঠিয়া উপজেলার কৃষক মাহারুল ইসলাম চলতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন মুড়িকাটা পেঁয়াজ। বিঘায় ৮০ মণ পেঁয়াজের ফলন পেলেও চিন্তার ভাঁজ তার কপালে। কারণ দেড় মাস আগেও বাজারে যে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ টাকায় তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকারও কম।

কৃষক মাহারুল জানান, এবার বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম নেই। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭শ’ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ। এতে উঠছে না কৃষকের বিনিয়োগের টাকা, বলছেন অন্তত দেড় হাজার টাকা মণ হলে লাভটা উঠতো। ‎তার মতো অনেকেই দাম বাড়ার আশায় ঘরে না তুলে মাঠেই রেখে দিচ্ছেন পেঁয়াজ। অভিযোগ করছেন, বিদেশি পেঁয়াজ আমদানি বহাল থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। আছে সার ও বিষের বাড়তি খরচের বোঝাও।

‎পুঠিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের মোকাম ঝলমলিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সেখানে শত শত টন পেঁয়াজ বেচা-বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনছেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ। বিক্রি করছেন ১৮ টাকা কেজি হিসেবে সর্বোচ্চ ৭২০ টাকা মণে। ‎ঢাকায় যাবার পর হাত বদল হয়ে সেই পেঁয়াজ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। লোকসানের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও। বলছেন এ অবস্থা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে কৃষক।

‎এদিকে, কৃষিবিভাগ বলছে চলতি মৌসুমে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছেন কৃষক। জেলায় ৮ হাজার ৩৪৪ একর জমিতে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩০০ টন পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা কেজি হিসেবে ধরে তাদের হিসেবে এসেছে ৫৯৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে এ তথ্য সামঞ্জস্য না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপাদন বেশি ও মৌসুম শেষ হওয়ায় দাম কমেছে। বিদেশ থেকে আমদানি কমেছে বলেও জানান তিনি। কৃষক সাময়িকভাবে কিছুটা দাম কম পেলেও পরে চারা পেঁয়াজ বাজারে এলে এ সংকট কাটে যাবে।

‎প্রতিবছরই পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজশাহী জেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা