May 24, 2026, 9:40 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়কের দুই পাশে টুকটুকে লাল পলাশ, মুগ্ধ রাজশাহী নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার :-

রাস্তার দুই ধারে দ্যুতি ছড়াচ্ছে টুকটুকে লাল পলাশ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছের শাখায় যেন আগুন জ্বলছে। বসন্তের হাওয়া লাগতেই রাজশাহী নগরের একটি সড়কজুড়ে ফুটেছে এই ফুল। আগুনরাঙা পলাশের রূপ জানান দিচ্ছে, এখন বসন্তের ভরা মৌসুম।

রাজশাহী নগরের আলিফ-লাম-মীম ভাটা থেকে চৌদ্দপাই বিহাস পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে সাজে একেক সাজে। গ্রীষ্মে সোনালু, বর্ষায় জারুল, শীতে কাঞ্চন আর বসন্তে পলাশ-প্রতিটি ঋতু এখানে আলাদা রূপে ধরা দেয়। নগরের কোলাহলের মাঝেও প্রকৃতি নিজের ছন্দে জানান দেয় তার উপস্থিতি। সড়কের মাঝের আইল্যান্ডজুড়ে পাম, রঙ্গন ও কাঠগোলাপের সারি বছরজুড়েই পথিকের মন ভরিয়ে রাখে।

সাধারণত হলুদ, লাল ও লালচে কমলা-এই তিন রঙে দেখা যায় পলাশ। তবে লালচে কমলার আগুনরাঙা রূপই বেশি নজর কাড়ে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে গাছ ভরে ওঠে ফুলে। ফুল ফোটার সময় গাছ প্রায় পাতাশূন্য থাকে।

সড়কটির দায়রাপাক মোড় থেকে মধ্য বুধপাড়া পর্যন্ত দুই পাশে আছে সারি সারি পলাশগাছ। বছরজুড়ে সবুজ পাতায় ঢাকা থাকলেও বসন্ত এলেই পাতার সবুজ ছাপিয়ে ফুটে ওঠে আগুনরাঙা ফুল। তা দেখে হঠাৎ থমকে যান পথিক, কেউ কেউ মুঠোফোনে বন্দী করেন মুহূর্তটি, কেউবা সকালবেলায় ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নেন। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাশের রং আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের ভেতর জ্বলছে আগুনের লাল শিখা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে পরিকল্পিতভাবে এই সড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। প্রতি কিলোমিটারে ভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। আইল্যান্ড–জুড়ে রোপণ করা হয়েছে শোভাবর্ধক বৃক্ষ। বর্তমানে সব গাছই টিকে আছে এবং সমানভাবে বেড়েছে। ফলে বছরজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বদলে যায় এই সড়কের রূপ।

নগরের দায়রাপাক এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পলাশের ছবি তুলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কবির হোসেন। তিনি মেহেরচন্ডী এলাকায় ভাড়া থাকেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরের অন্য সড়কগুলোর চেয়ে এই সড়কের আলাদা একটা বিশেষত্ব আছে। এখানে সব সময়ই কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। এখন বসন্তে পলাশ ফুটেছে। গাছের নিচে লাল ফুল বিছিয়ে আছে, দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

সড়কটির পাশেই বসবাস মনির হোসেনের। তিনি বলেন, ছয়-সাত বছর আগে সড়কটি পাকা করার সময় পলাশগাছ লাগানো হয়। দুই বছর ধরে গাছগুলো ফুল দিচ্ছে। গরমের সময় গাছের নিচে বসে থাকা যায়।

মধ্য বুধপাড়ায় দেখা যায়, ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা কয়েকজন তরুণ-তরুণী পলাশ ফুলের ছবি তুলছেন। কেউ কুড়িয়ে নিচ্ছেন ঝরে পড়া ফুল, কেউ আবার হাতে নিয়ে দেখছেন কাছ থেকে। তাঁদেরই একজন তাবাসসুম আক্তার। তিনি বলেন, পলাশগাছগুলো এমনভাবে ফুটেছে যে দাঁড়ালেই বোঝা যায়, বসন্ত এসেছে!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা