May 24, 2026, 7:35 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কাঁদছেন বগুড়ার মানুষ

বগুড়া প্রতিনিধি :-
নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নন, সাধারণ মানুষের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর প্রচার হলে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার আহ্বানে নেতাকর্মীরা শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে ছুটে যান। এ সময় নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, কয়েক দিন আগে তারা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। খালেদা জিয়া তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা বগুড়া ও এখানকার মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। তার হাত ধরে অবহেলিত বগুড়া উন্নয়নের মুখ দেখেছে। তাই বগুড়ার মানুষ তাকে আজীবন স্মরণ ও শ্রদ্ধা করবেন।

এ সময় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীন, কে এম খায়রুল বাশার, সহিদ উন নবী সালাম, শেখ তাহাউদ্দিন নাইন, যুবদলের জাহাঙ্গীর আলম, আবু হাসান, ছাত্রদলের হাবিবুর রশিদ সন্ধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও সবাই কালোব্যাজ ধারণ করেছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া হবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি এ আসন থেকে শপথ না নেওয়ায় ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে জহুরুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হন। খালেদা জিয়া ফেনীর আসন রাখায় ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

খালেদা জিয়া বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হন। তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে ওই বছরের সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯৬ সালের জুনের দুটি নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি আসন ছেড়ে দিলে ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে আবারও তার আস্থাভাজন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন। তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে ২০০১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া এমপি হন। তিনি আবারও আসনটি ছেড়ে দিলে ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে প্রার্থী করা হয়। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি ও জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করেন।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বগুড়ার অভূতপূর্ণ উন্নয়নকাজ হয়েছে। তার হাতে সম্পন্ন হওয়া উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে ৫০০ শয্যার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের বগুড়া শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম, বগুড়া সুইমিং পুল, বগুড়া বিমানবন্দর (বিমান বাহিনীর ফ্লাইং স্কুল), বনানী-মাটিডালি সড়ক সম্প্রসারণ, বগুড়া নার্সিং কলেজ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সংযোগ অন্যতম। এসব উন্নয়নের ফল বগুড়াবাসী ভোগ করছেন।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে তারা ঘরের বাইরে চলে আসেন। খবরটি নিশ্চিত হতে হোটেল-রেস্তরাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় টেলিভিশনের সামনে দাঁড়ান তারা। এ সময় সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নাকাটি করেন। অনেক নেতাকর্মী বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন।

বগুড়া শহরের বৃন্দাবনপাড়ার কলেজছাত্র সিরাজুল ইসলাম, সাদমান সাকিব, ইমরুল কায়েস প্রমুখ জানান, তারা বেগম খালেদা জিয়াকে কখনও দেখেননি। তবে পরিবারের বড়দের কাছে তার দৃঢ়চেতা আপসহীন মনোভাব ও দেশপ্রেমের কথা শুনেছেন। তিনি তার শাসনকালে বগুড়া জেলার অভূতপূর্ণ উন্নয়নকাজ করেছেন।

শহরের কাটনারপাড়ার বাসিন্দা ৮২ বছরের আফজাল হোসেন জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি এমন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও কর্মঠ শাসক দেখেননি। তিনি আশা করেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবেন। সবাই বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা