May 24, 2026, 8:59 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ইস্যুতে সক্রিয় রাকসু

রাবি প্রতিনিধি :-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের কয়েক মাস পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, আবাসন, সেশনজট ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে রাকসু সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তবে বাস্তবে জাতীয় রাজনীতি ঘিরে ছাত্রপ্রতিনিধিদের নানা কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যই বেশি আলোচনায় এসেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

গত ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি পদে জয়লাভ করে। বাকি তিনটি পদের মধ্যে ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী, জিএস পদে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোহফা নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

নির্বাচনের আগে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত জোট ২০ দফায় ১২৫টি ইশতেহার ঘোষণা করে। প্রতি মাসে একটি করে ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুই মাস পেরিয়ে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বরং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে রাকসুর আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় সমালোচনায় পড়েন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। গত ৪ ডিসেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রামে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। বিষয়টি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সম্প্রতি তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিক বন্ধ করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির একে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদের ডিনদের মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসন সময় বাড়িয়ে বহাল রাখে। আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগ দাবিতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ২১ ডিসেম্বর ডিনদের দপ্তর ও পরে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। এ সময় উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে আলোচনার আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় এক শিক্ষক ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতেও রাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরবি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থী উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। ওই রাতে সিন্ডিকেট সভার সময় ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। খবর পেয়ে রাকসুর ভিপি, জিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরাও সেখানে যান এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ দাবি করেন। পরদিন ওই নিয়োগ সম্পন্ন হলে ক্যাম্পাসে সমালোচনা আরও জোরালো হয়।

রাকসুর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সাবেক প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষকরা এসব কর্মকাণ্ডকে অছাত্র সুলভ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সজীব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে প্রত্যাশা নিয়ে রাকসুর কাজ করার দরকার ছিল সেখান থেকে সরে এসেছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার জায়গা আছে। কিন্তু রাকসুর কাজ যা হচ্ছে তার সিংহভাগই জাতীয় রাজনীতিকেন্দ্রিক। যেখানে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যেতে চান। ভিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তার ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের গতি কম হলেও তারা ইশতেহারের কিছু অংশ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কাজ চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে রাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা