October 28, 2026, 6:27 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

শহিদ শামসুজ্জোহার সমাধিতে রাবি প্রেসক্লাব’র শ্রদ্ধা নিবেদন

রাবি প্রতিনিধি :-

দেশের প্রথম বুদ্ধিজীবী শহিদ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার শাহাদাৎ বার্ষিকী ও শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে তার সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। এ সময় সংগঠনের সদস্যরা গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে এই মহান শিক্ষকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে অবস্থিত শহিদ শামসুজ্জোহা সমাধী প্রাঙ্গনে ক্লাবের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে এই পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে ক্লাবের দফতর সম্পাদক ফাহমিদুর রহমান (ফাহিম) বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও আমরা জোহা স্যারকে স্বরূণ করে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছি। আজকের এই দিনে আমাদের শ্রদ্ধেয় জোহা স্যার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহিদ হন। শুধুমাত্র আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই এই দিবসটি পালিত হয়। আমরা আশা রাখি আগামীর দিনগুলোতে পুরো দেশব্যাপী সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দিবসকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে পালন করা হবে।’
বিজ্ঞাপন

রাবি প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম শামীম বলেন, ‘শহিদ শামসুজ্জোহা স্যার গণআন্দোলনে শহিদ হওয়ার প্রথম শিক্ষক। যিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মাত্যাগ করেছেন। জোহা স্যারের মতো শিক্ষক ইতিহাসে বিরল। ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস হওয়া সময়ের দাবি। কিন্তু যুগের পর যুগ কেটে গেলেও মহান এ ব্যক্তিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি রাষ্ট্র। আজকের এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে ঘোষণা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘’শহিদ আবু সাঈদ মৃত্যুর আগে গভীরভাবে জোহা স্যারের অভাব অনুভব করেছিলেন। মৃত্যুর আগের দিন তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘স্যার! এই মুহূর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার।’ এই কথাই প্রমাণ করে- আমাদের ড. জোহা স্যার আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে জোহা স্যার আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখজনক, দিবসটি আজও কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। জাতীয়ভাবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি। একজন শহিদ বুদ্ধিজীবীর প্রতি এটি এক ধরনের অবমূল্যায়ন বলে আমরা মনে করি। তাই আজকের এই দিনে আমরা ফের জোরালোভাবে দাবি জানাই শহিদ ড. শামসুজ্জোহা দিবসকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ মর্যাদায় স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’’

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা দিবসটির তাৎপর্য, গুরুত্ব ও শিক্ষণীয় দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে দেশ-বিদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে ছাত্র-শিক্ষক নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে শহিদ হন তৎকালীন সময়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শহিদ ড. সৈয়দ মো. শামসুজ্জোহা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা