May 24, 2026, 7:48 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খড়ের স্তুপে পলিথিন নিয়ে দ্বন্দ্ব, মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় প্রবাসী কারাগারে

নওগাঁ প্রতিনিধি :-

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় খড়ের স্তুপে পলেথিন উড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দ্বন্দ্বের জেরে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এমরান ওরফে একরাম মিয়া (৪০) বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের পাটনঘাটা মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহেদ আলী সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমি আক্তার রুমি, গৃহবধূ ফেন্সি, মরিয়ম, প্রতিবেশী শাপলা আক্তারসহ আরও অনেকে। কর্মসূচিতে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমরান ওরফে একরাম মিয়া চট্টগ্রামের মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে পশ্চিম বালুভরা গ্রামের হারুনুর রশীদের মেয়ে সুমি আক্তার রুমিকে বিয়ে করেন। গত ছয় মাস ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার বাড়ির পাশেই প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তারের খড়ের স্তুপ রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

আব্দুস সাত্তারের মেয়ে মিনি বানু তার স্বামী ও দুই সন্তানসহ কয়েক বছর ধরে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিনি বানু খড় নিতে গেলে এমরান ওরফে একরাম মিয়া তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ১ ফেব্রুয়ারি মিনি বানু বাদী হয়ে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থানা পুলিশ এমরান মিয়াকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।

তবে মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী নাছিমা অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, এমরান এলাকার জামাই। তার আচরণে কেউ অসন্তুষ্ট নয়। ধর্ষণ চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। খড়ের স্তুপে পলেথিন উড়ে যাওয়া নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, বিষয়টি সেখানেই সীমাবদ্ধ।

সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াহেদ আলী সরদার বলেন, মিনি বানুর আচরণ নিয়ে এলাকায় আগেও একাধিকবার সালিশ হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে একজন মানুষকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমি আক্তার রুমি বলেন, মিথ্যা মামলার কারণে আমার স্বামী জেলহাজতে রয়েছেন এবং বিদেশে যাওয়ার সুযোগও নষ্ট হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।

এদিকে মামলার বাদীর বাবা আব্দুস সাত্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের খড়ের পালায় তারা ময়লা-আবর্জনা ফেলতো। নিষেধ করায় উল্টো আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। আমরা আদালতের মাধ্যমে বিচার চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা