May 24, 2026, 11:27 pm
শিরোনাম :
রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরলেন তেল না পেয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা রাজশাহী প্রেসক্লাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শামসুল ও রেজাউলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আর্থিক নিরাপত্তা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা চান সাংবাদিকেরা: আরইউজে’র আলোচনা সভা জুলাইযোদ্ধা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত, লাশের অপেক্ষায় মা দেশে মব কালচার আর থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটকেন্দ্র সংস্কার ও স্কুল উন্নয়নের বরাদ্দে বিভ্রান্তি

মোঃ নুরে ইসলাম মিলন :-

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ সংস্কারের হিড়িক পড়েছে। জেলার অন্তত ৩১টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে যে সংস্কারকাজ হয়েছে, তার বড় অংশই ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সরেজমিনে পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টাকায় শুধু ভোটকক্ষ নয়, পুরো স্কুলের বৈদ্যুতিক সংযোগ নতুন করে করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণ ও বাইরেও বড় বড় বাতি বসানো হয়েছে। অথচ এর আগেও একাধিকবার এখানে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তখন এমন কোনো সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএন রিদওয়ান ফিরদাউস জানান, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক বাতির সংকট ছিল। প্রকৌশলীর দেওয়া বাজেট অনুযায়ী লাইট ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। তাঁর দাবি, এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। ভোটের আগের দিন ও রাতে বিভিন্ন মানুষ অবস্থান করায় আলোর প্রয়োজন হয়—এই যুক্তিতেই পুরো স্কুলে আলো বসানো হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা থাকলে তা দিয়ে দেয়াল নির্মাণের কথাও জানান তিনি।

নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একই চিত্র দেখা গেছে বাগমারা উপজেলার তোকিপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। স্কুলটির কয়েকটি দরজা ও জানালার ফ্রেম নষ্ট থাকলেও পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়নি সেই কাজে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দরজা-জানালা মেরামতের পর টাকা বেঁচে যাওয়ায় পুরো স্কুল ভবন রং করা হয়েছে।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনটি দরজা ও ছয়টি জানালা সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। সেগুলো ঠিক করার পর যে টাকা অবশিষ্ট ছিল, তা দিয়ে স্কুলে রং করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কাজগুলো বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও ব্যবহার উপযোগিতার জন্যই করা হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে আধুনিক ও ব্যবহারযোগ্য সরকারি ভবন থাকা সত্ত্বেও পাশের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনকে ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। কোথাও আবার নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় শ্রম ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে।
মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা জানান, প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে ফোন করে জানালা ও দরজার তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। ভাঙাচোরা অংশের ছবি পাঠানোর পর বাজেট দেওয়া হয় এবং বর্তমানে রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রি দিয়ে কাজ চলছে।

তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের কোনো প্রয়োজনই ছিল না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কবি কাজি নজরুল ইসলাম কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল করিম বলেন, কলেজের অবকাঠামো ভালো অবস্থায় আছে। কোনো সংস্কার চাহিদা দেওয়া হয়নি, তবুও ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

পবা উপজেলার শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি। সেখানে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলা হলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, তারা কোনো চাহিদাপত্র দেননি এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত চিঠিও পাননি। শুধু উপজেলা থেকে একজন এসে দেখে কিছু লিখে নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা শুধু বাজেটগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন। বিল প্রদান ও কাজের তদারকির দায়িত্ব ইউএনওদের। কোথায় কীভাবে কাজ হয়েছে বা টাকা পরিশোধ হয়েছে—সে বিষয়ে প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও, তার আড়ালে পরিকল্পনাহীন ও অপ্রয়োজনীয় সংস্কার প্রশ্ন তুলছে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভোটের প্রস্তুতির নামে এমন খরচ যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে নির্বাচন শেষ হলে এসব ব্যয়ের কোনো জবাবদিহি থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা