October 27, 2026, 6:38 am
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

দীর্ঘ ১৯ মাস পর সুমন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

নওগাঁ প্রতিনিধি :-

দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার আলোচিত সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নওগাঁ পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে লাশ গুমে ব্যবহৃত একটি পানির ডোবা থেকে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আত্রাই থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার কয়শা গ্রামের বাসিন্দা সুমন (৩৯), পিতা মো. শাহাদাত হোসেন, নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ২২ জুন তার পরিবার আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত সুমনের বলে নিশ্চিত হয়। এরপর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘদিন মামলাটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে নতুন উদ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

গ্রেপ্তারকৃত শাফিউলের ভাষ্যমতে, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং হাত ধরে টানাটানি করলে সে ক্ষিপ্ত হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২২ জুন শাফিউল ও তার ছোট ভাই সায়েম পরিকল্পিতভাবে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে আটক করে। গভীর রাতে বাড়ির পাশের একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে সুমনকে হত্যা করা হয়। পরে দু’জন মিলে লাশ গুম করতে পাশের নিচু স্থানে মাটি চাপা দেয়।

পুলিশ জানায়, শাফিউলের ছোট ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছে। শাফিউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরের একটি পানির ডোবা সেচ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনতা ভিড় করে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ জেলার যেকোনো অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যতই সময় নিক, আইনের আওতায় আসবেই।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা