
নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল। ‘ব্লাডি সিটিজেন’ সম্বোধন নিয়ে উত্তপ্ত কমিশন ভবন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শুনানি চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকেই কঠোরভাবে সাবধান করে দেওয়া হয়, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না হয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু তাঁকে ও তাঁর আইনজীবীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তবে এ বিষয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমকর্মীদের হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি আলোচনা চলছিল এবং কমিশন সেগুলো শুনছিল। অত্যন্ত একাডেমিক পরিবেশে যখন আইনজীবীরা কথা বলছিলেন, তখন আব্দুল আউয়াল মিন্টু হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে মুসার (আইনজীবী) দিকে তেড়ে যান। তিনি ‘ব্লাডি সিভিলিয়ান’, ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালিগালাজ করেন। পরে তাবিথ আউয়াল তাঁর বাবাকে কমিশন কক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।’
হাসনাত আরও বলেন, ‘যাঁরা এলিটিসিজম দেখাতে আসেন, তাঁরা যেন রাজনৈতিক দম্ভ বাসায় রেখে বের হন। আপনি মানুষকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলবেন, আবার তাঁদের কাছেই ভোট চাইবেন—তা হবে না। তাঁর মতো বিদেশে টাকা পাচারকারী এলিটরা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখে। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যাঁরা ব্যবসা করেন এবং সেফ এক্সিট খুঁজছেন, তাঁদের চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে দেখতে চাই না। সবাই মিন্টু সাহেবের আচরণে আহত হয়েছেন। আমরা কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি।’
ঘটনার পর কমিশনের কাছে তাৎক্ষণিক রুলিং চাইলেও তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘স্বয়ং ইসির সামনে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য। এমন পরিস্থিতিতে অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা ইসি কীভাবে নিশ্চিত করবে? কমিশন এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলার চেষ্টা করছে। আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতাম প্রক্টরের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গেলে লিখিত দিতে বলতেন; এখন ইসির ভূমিকাও অনেকটা সেরকম মনে হচ্ছে।’