October 28, 2026, 3:58 pm
শিরোনাম :
টেকনাফ থেকে গোদাগাড়ী: মাদক নেটওয়ার্কের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে জাসাসের স্যালাইন পানি বিতরণ ছবি তোলায় রাজশাহীতে ৫ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি ব্যানার ছাড়াই গোদাগাড়ীতে জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা সংঘর্ষ: তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ “সরকারি অনুমোদন এখনো হয়নি, সফরের ব্যয় বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান” নতুন কিছু চমক দেখাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে আলোচনা রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ রাজশাহীতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

তানোরে হিমাগারে থাকা আলু গোপনে বিক্রি, ৪১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

তানোর প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর তানোরে আল মদিনা হিমাগারের ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা মামুন নামের আলু চাষির সংরক্ষিত ১ হাজার ৩০০ বস্তা আলু গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বুকিংকারী কৃষক মামুন বাদী হয়ে মদিনা হিমাগারের ম্যানেজার মাহাবুর রহমানকে বিবাদী করে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। মামুনের বাড়ি উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামে। সে দীর্ঘদিন ধরে আলুর চাষাবাদ করে আসছেন। এছাড়াও ওই হিমাগারে ১ হাজার বস্তা বীজ আলু সংরক্ষণের জন্য রাখেন মামুন। সেই বীজ আলু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

 

মদিনা হিমাগারে গত মৌসুমে যারাই আলু সংরক্ষণের জন্য রেখেছিলেন তাদের প্রায় আলুতে গাছ গজিয়েছে আবার প্রচুর আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষককে পথে বসিয়ে দিলেও হিমাগার কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য হিসাব ঠিকই আদায় করেছেন। আলু রাখল কৃষক আর মালিক বনে গেলেন হিমাগার কর্তৃপক্ষ। এভাবেই তারা আলু চাষিদের পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত মামুনের প্রায় ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন তদন্ত করলেই আলু বিক্রি ও নষ্টের বিষয়ে সঠিক প্রমাণ পাবে এবং তদন্তে প্রমাণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তাঁর ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন।

 

অভিযোগে উল্লেখ, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখ হতে ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে আল মদিনা হিমাগারে ৬০৭ নম্বর বুকিংয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৪৫ বস্তা আলু সংরক্ষণে রাখা হয়। রাখার পরে বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষিত আলু বিক্রয় করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার বস্তা দিনাজপুরের বীজ আলু রাখা হয়। কিন্তু হিমাগার কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে ১ হাজার বস্তা বীজ আলু নষ্ট হয়ে যায়। বীজ আলুর বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। গত ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে সংরক্ষিত আলু পরিদর্শনে গিয়ে আলুর পরিমাণ ঘাটতি ছিল। এ অবস্থায় ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখে পুনরায় হিমাগারে আলু দেখতে গিয়ে জানতে পারি সংরক্ষিত ১ হাজার ৩০০ বস্তা আলু বিক্রি করে দেয়। আলু বিক্রির সময়ে আমাকে অবহিত না করে গোপনে তারা এত পরিমাণ আলু বিক্রি করে।

 

আলু চাষি মামুন জানান, ১ হাজার বস্তা বীজ আলু নষ্ট করেছে। আবার ১ হাজার ৩০০ বস্তা আলু আমাকে না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে। যার কারণে আমার প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১০/১১ টাকা কেজি দরে। এখনো হিমাগার থেকে বুকিংকৃত কৃষকরা আলু বিক্রি করছেন। তারা প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। প্রতি হিমাগারে এখনো আলু রয়েছে। আর আমার আলু মদিনা হিমাগারের ম্যানেজার বিক্রি করে দিয়ে উল্টো আমার কাছ থেকে আরও টাকা পাবে বলে চাপ দিচ্ছে। গত মৌসুমে আলু চাষ করে সবাইকে লোকসান গুনতে হয়েছে। হিমাগারে রাখা হয়েছিল লাভ না পেলেও যাতে আসল টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু আমার আলু গোপনে বিক্রি করে দিল। এত পরিমাণ আলু বিক্রি করে দেয়ার পর আমাকে টাকা দেয়ার পরিবর্তে তারাই নাকি টাকা পাবে বলে চাপ দিচ্ছে। আমরা আলু রাখি বলে তাদের প্রতিষ্ঠান চলে। অথচ আমার মত অসহায় কৃষকের আলু জোরপূর্বক বিক্রি করে দিল। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই। কারণ যখন ১৭/১৮ টাকা কেজি ছিল তখন তো বিক্রি করেনি। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আল মদিনা হিমাগারের ম্যানেজার মাহাবুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামুনকে আলু বিক্রির জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। একারণে তার আলু নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও অনেক আলু বিক্রি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার আলু বিক্রি করছেন তাহলে মামুনের আলু কেন বিক্রি করলেন, উপেক্ষা করা যেত না জানতে চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা