সিরাজগঞ্জের ৪টি উপজেলায় এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। বেশি লাভের আশায় ফসলি জমিতে তামাক চাষ করছেন কৃষকরা। দ্রুত তামাক চাষ বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে এটি চাষের প্রবণতা আগামীতে আরো বাড়বে। এতে ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি অফিস।
কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে পাকা সড়কের পাশে প্রায় তিন বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন বানিয়াগাতি গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে কৃষক শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভের আশায় প্রথমবারের মতো তামাক চাষ করেছি। কিন্তু জমিতে বেশি পরিমাণে সার ও পানি দেওয়ায় তামাকের ফলন ভালো হয়নি। আগামীতে আর তামাক চাষ করব না।
একই এলাকার স্থানীয় কৃষক সাদেক আলী ও ইমান আলী বলেন, এই জমিতে আগে প্রচুর পরিমাণে ধান, সরিষা ও ভুট্টার চাষ হতো। বেশি লাভের আশায় শহিদুল ইসলাম ফসলী জমিতে তামাক চাষ করেছেন।
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তামাক চাষে পরিবেশের ক্ষতি হয়, জমির মাটির উর্বরতা কমে যায়। তবে এটি নিষিদ্ধ কোন ফসল নয়, এটি চাষাবাদ বন্ধে দেশে এখনো কোন আইন হয়নি।
আমরা কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করে থাকি। জোর করে তো বন্ধ করতে পারি না।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ, কে, এম মনজুরে মাওলা বলেন, তামাক চাষে মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। এটি বন্ধে কোন আইন না থাকায় কৃষকদের বুঝিয়ে তামাক চাষ বন্ধ করা হয়ে থাকে। তারপরও কিছু মানুষ এটি চাষ করে, কারণ একটি পক্ষ এটি চাষে কৃষকদের নানা সুবিধা দেয় এবং তামাক কিনে নেওয়ার জন্য বসে থাকে।
তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলে তামাক চাষের প্রবনতা ক্রমশ বাড়ছে। চলতি বছর কামারখন্দ উপজেলার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এটি বন্ধে আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।