রাজশাহীর তানোরে বাবার সম্পত্তির ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভাই তার বোনকে বেধড়ক মারধর করে পা ভেঙে দিয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের নড়িয়াল গ্রামে। আহত নারীর নাম লাভলী বেগম (৩৫)।
রোববার সন্ধ্যায় আহতের স্বামী মজিবর ওরফে বাচ্চু বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে নড়িয়াল গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র সনেট (৪৫), তার ছেলে ফয়সাল (২৪), স্ত্রী ফাতেমা (৪০) ও ভাতিজা ফরিদ (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বাবার সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে সম্পত্তির ভাগাভাগি হয়। শনিবার বিকেলে লাভলী বেগম তার অংশের জমিতে তারকাটার বেড়া দিতে গেলে অভিযুক্ত ভাই সনেট ঘটনাস্থলে এসে তাকে লোহার সাবল, রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
মারধরের একপর্যায়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে উভয় পায়ে একাধিক কোপ দেওয়া হয়। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এক পায়ে সেলাই দিতে হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে নেটিজেনরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এজাহারে আরও বলা হয়, আহত নারী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার পরনের কাপড় টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা আনুমানিক তিন আনা ওজনের স্বর্ণের মালা এবং দুই কানে থাকা প্রায় পাঁচ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কলমা ইউনিয়নের বিট অফিসার ও তানোর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, থানায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। ওসি বর্তমানে রাজশাহীতে মিটিংয়ে আছেন। তিনি এলে তার নির্দেশনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।