অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে এবার ৭ জন নারী কারাবন্দিসহ ৭৮ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ইতিমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন তারা। সেই সঙ্গে কারাগারে কর্মরত ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন বলেও জানা গেছে কারাগার সূত্রে। এদিকে কারাবন্দিদের ভোট প্রদানের সুযোগ থাকায় এটিকে নাগরিক অধিকার বলে দাবি করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) পদ্ধতির মাধ্যমে জেলখানা বা আইনি হেফাজতে আটক থাকা ভোটাররা এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার বিকেল ৫টা অব্দি জেলা কারাগারে মোট কারাবন্দির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২১ জন। এরমধ্যে ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ৮৭ জন কারাবন্দি নিবন্ধনের প্রস্তুতি নেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটি, জামিনপ্রাপ্তি এবং অন্য কারাগারে স্থানান্তরের কারণে বর্তমানে নিবন্ধনভুক্ত কারাবন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ জন।
কারাবন্দিদের ভোট দেয়ার বিষয়ে বগুড়া জেলা কারাগারের অতিরিক্ত জেলার নূরুল মুবীন বলেন, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে সেন্ট্রাল মাইকের মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা ও পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে কারাবন্দিদের ভোট দেয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়। যারা ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাদের মোট ৮৭ জন কারাবন্দি নিবন্ধনে আগ্রহী হয়। এরমধ্যে ৭ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটি থাকায় তাদের নিবন্ধন সম্ভব হয়নি। পরে ৮০ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও এর মধ্যে একজন জামিনপ্রাপ্ত হন এবং অপর একজনকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ফলে মোট ৭৮ জন কারাবন্দি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে সাতজন নারী কারাবন্দি রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ৪৫ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীও নিবন্ধন করেছেন। এসব ভোট পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।
কারাবন্দিদের ভোট দেয়ার অধিকারের বিষয়ে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন বলেন, এটি খুবই ভাল উদ্যোগ। একজন অপরাধী তার সাজা ভোগ শেষে সুস্থ ও সুন্দরভাবে চলাফেরা করবে। তাদের অধিকার রয়েছে মত প্রকাশের। তাই কারাবন্দিদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার বিষয়টিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যাতে কারাবন্দিদের আরও মৌলিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।