পাবনার টেবুনিয়ায় সামছুল হুদা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর সামছুল হুদা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক চৌধুরী অবসর নেবেন বিধায় কলেজ গভর্নিং বডির সভা গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে কমিটির সদস্যরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে, একমত হতে না পারায় সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় কয়েকজন সদস্য সভা ত্যাগ করেন।
কারণ, হিসেবে জানা যায় অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রথম থেকে পাঁচজন ক্রমিকধারি শিক্ষক কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবে। এক্ষেত্রে পরিপত্রের বিধান অনুসরণ করার হচ্ছে না বিধায় গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য সভা ত্যাগ করেন। পরে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ একটি বিবরণী লেখে গত ১-১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক মো. তারিকুল ইসলামকে ১০ দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। বিবরণীতে তরিকুল ইসলাম ৩০ ডিসেম্বর দায়িত্ব বুঝে পাইলাম উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন, এখানে অধ্যক্ষ ও সভাপতিও স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ নিয়োগের বিধিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্ব না দিয়ে তুলনামূলক জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত ১০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ১১ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তড়িঘড়ি করে এমন নিয়োগের কাজ করতে গিয়ে অধ্যক্ষের অবসরে যাওয়ার এক দিন আগেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব অধ্যক্ষ দায়িত্ব বুঝে পাইলাম বলে সাধারণ ওই বিবরণিতে স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির কার্যবিবরণী খাতায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে তার নিয়োগের বিবরণী সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি। তিনি সাধারণ ওই বিবরণীটা দেখিয়েছেন।
এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘গত ৩১ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক চৌধুরী অবসর গ্রহণের সময় মন্ত্রণালয়ের বিধি অমান্য করে একজন জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের চরমভাবে অসম্মান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।’
গভর্নিং বডির একজন সদস্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ হবে না বিধায় আমরা সভা ত্যাগ করেছি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি।
কলেজের অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, নিয়োগের এই সিদ্ধান্তে শুধু শিক্ষক সমাজ নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান না হলে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর ১০ দিনের জন্য যে রেজুলেশন করা হয়েছিল, সেটি বাতিল করে ওই দিনই নতুন করে ছয় মাস মেয়াদে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার রেজুলেশন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সব নিয়মকানুন মেনেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’