নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গোকুলপুর গ্রামে সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের চলাচলের পাকা রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু অবৈধ দখলের বিষয়ই নয়, বরং প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা স্থানীয় জনগণকে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আঃ লতিবের ছেলে আঃ আজিজ তিলকুড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি ও সড়কের অংশ দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের পাশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ ফুট দূরত্ব খালি রাখতে হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিয়ম সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো প্রশাসনের ভূমিকা। স্থানীয়রা বলছেন, বারবার লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, সরকারি সম্পত্তি দখলের মতো গুরুতর বিষয়েও প্রশাসন কেন কার্যকরভাবে কাজ করছে না। অনেকেই মনে করছেন, এটি দায়িত্বহীনতা নয়, বরং প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ‘নীরব সমর্থন’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
আঃ আজিজ দাবি করছেন, জায়গাটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এটি সরকারি সম্পত্তি। এই দ্বন্দ্ব আরও জটিল হয়েছে কারণ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য তদন্ত পরিচালনা করেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগের একাংশ নির্দেশ করছে যে, প্রশাসন শুধু অপরাধ দমন না করে, বরং প্রভাবশালী দখলকারীর স্বার্থ রক্ষা করছে। তারা বলেন, “সরকারি সম্পত্তি দখল এবং জন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার মতো গুরুতর বিষয়েও প্রশাসনের নীরবতা আমাদের নিরাপত্তা ও অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের এ ধরনের উদাসীনতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাষ্ট্র ও আইনের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি দমনহীনতা শুধু সম্পত্তি ও রাস্তা দখলকে উৎসাহিত করবে না, বরং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করতে পারে।
এতে দেখা যাচ্ছে যে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে। স্থানীয় সচেতন মহলও ইতোমধ্যে সরকারের কাছে দাবি তুলেছে, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রশাসনের অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই ঘটনা শুধু একটি জায়গার সমস্যা নয়; এটি প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ কর্মকাণ্ডের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে, সমাজে আইনের প্রতি আস্থা ক্ষয় হতে বাধ্য।