ক্রিকেটবিয়ষক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর দাবি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে টুর্নামেন্টে খেলতে টাইগাররা ভারত সফর করবে কিনা- সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বুধবারের (২১ জানুয়ারি) মধ্যে। কারণ গত শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইসিসি এই সময়সীমার কথা বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে। তবে ক্রিকইনফোর খবর উড়িয়ে দিয়ে গতকাল মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গত শনিবার আইসিসির এক প্রতিনিধি আসেন (ঢাকায়)। তার সঙ্গে আমাদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বিশ্বকাপে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা জানিয়ে দিই যে, এই ভেন্যুতে (ভারত) খেলতে আমরা অপারগ এবং বিকল্প ভেন্যুর জন্য আমরা অনুরোধ করি। তাদের (আইসিসির) প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়।’
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলংকা। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সব কটি ম্যাচই ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। এই গ্রুপের বাকি দলগুলোÑ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ শুরুর দিনেই মাঠে নামবেন টাইগাররা। ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। নিরাপত্তা শঙ্কায় তারা বাংলাদেশ দলকে ভারত পাঠাবে না বলে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তবে আইসিসি চেষ্টা করছে বিসিবিকে রাজি করাতে। তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ঢাকায় এসেছিলেন আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা।
বৈঠকে বিসিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইসিসির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বিসিবির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিবি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার রাতে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবিকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছে আইসিসি।
গতকাল আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ উনারা (আইসিসির প্রতিনিধিরা) তখন বলেন যে, এই ব্যাপারগুলো তারা আইসিসিকে অবহিত করবেন এবং পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। এই ব্যাপারে উনারা সুনির্দিষ্টি তারিখ বা কবে নাগাদ জানাবেন, কিছুই বলেননি। শুধু জানিয়েছেন, পরবর্তী (আলোচনার) তারিখটি কবে হবে (সেটা) আমাদেরকে জানিয়ে দেবেন।’