স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম নিজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ৫টি গ্রামের ভোটারেরা।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। ফলে ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে এক অন্যরকম আনন্দ।
ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বেখইজোড়া, কুর্শিবাড়ি, বালিয়া, মাসকান্দা ও মদনপুর গ্রামে ২ হাজার ১৬৯ জন ভোটার রয়েছেন। ওই ৫টি গ্রামের ভোটারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজ কেন্দ্র বেখইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার দূরে ২নং ওয়ার্ডের সুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতেন। এতে করে ৫টি গ্রামের ভোটারদের সুনই কেন্দ্রে যেতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। খেয়া পারাপার ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে বয়স্ক নারী ও পুরুষ ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে স্ব স্ব পরিবারের লোকজনকে বিপাকে পড়তে হতো। তাই অনেকেই দূরের কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতেন।
গত বছরের আগস্টে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আর নির্বাচন কমিশন এলাকাবাসীর যৌক্তিক দাবিকে আমলে নিয়ে বেখইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
বেখইজোড়া গ্রামের ভোটার ইব্রাহিম তালুদকদার বলেন, ‘এবারই প্রথম নিজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবো। এটি ভেবেই আনন্দ লাগছে।’
একই গ্রামের হবি আলম বলেন, ‘একবার বর্ষাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন কলা গাছের ভেলা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয়েছিল, যা ভাবলে এখনো দুঃখ লাগে।’
১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপন করায় এলাকাবাসীর দীর্ঘ বছরের দুঃখ লাঘব হলো। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই এলাকার ভোটারেরা নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।’