পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবৈধ ৪৫ ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। কয়লার পরিবর্তে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানোসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় অভিযানের সময় ৪৫টি ইটভাটাকে মোট ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল ২৯ ডিসেম্বর সোমবার দিনব্যাপী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে এই অভিযান চালানো হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক তাসমিনা হোসেন। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদলাত ও স্থানীয়দের সূত্রে দেওয়া তথ্য মতে,গতকাল সোমবার সকালে প্রথমে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া হাট সংলগ্ন মিজান সরদারের মালিকানাধীন ‘এসবিএম ব্রিকস’ নামে একটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত লক্ষ্মীকুন্ডার নবীনগর এলাকার ইটভাটাগুলোতে অভিযানে যান। সেই সময় কয়েকটি ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শ্রমিকরা লক্ষ্মীকুন্ডার দাদাপুর–পাকুড়িয়া সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তখন যৌথবাহিনী শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুপারিশে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইটভাটা ভেঙে ধ্বংস করার কার্যক্রম বন্ধ করে জরিমানা শুরু করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক তাসমিনা হোসেন জানান, দিনব্যাপী অভিযানের লক্ষ্মীকুন্ডার ৪৫টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মামলা দায়ের করে নগদ ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ‘এসবিএম ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা না করার শর্তে ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।