বিশ্বকাপে না খেলা, আইসিসির সিদ্ধান্ত এবং নানা বিতর্কে উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন! সেই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রভাবশালী পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগ।
গতকাল শনিবার বোর্ডে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গুঞ্জন উঠেছে, চলমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে আরও অন্তত দুইজন পরিচালক সরে দাঁড়াতে পারেন, যা বিসিবির ভেতরের অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
ইশতিয়াক সাদেক এমন এক সময়ে দায়িত্ব ছাড়লেন, যেদিন আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। ফলে দুটি ঘটনাকে একসূত্রে দেখার চেষ্টা শুরু হয় বোর্ড সভা শেষেই। তবে বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ইশতিয়াকের পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণই মুখ্য।
আসিফ আকবরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশতিয়াক সাদেকের বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং পারিবারিক জটিলতার কারণেই তিনি বোর্ডের কার্যক্রম থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বোর্ড সভায় অনুপস্থিত ছিলেন তিনি, এমনকি বিপিএলেও রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে তাকে দেখা যায়নি, অকশন ছাড়া। সভাপতির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রেও তিনি ব্যক্তিগত কারণের কথাই উল্লেখ করেছেন বলে জানান আসিফ।
গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনে দুই নম্বর ক্যাটেগরি থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন ইশতিয়াক সাদেক। ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত এই ক্রিকেট সংগঠক দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বড় পরিচয় ছিল বিপিএল দল রংপুর রাইডার্সের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে। বিসিবিতে পরিচালক হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম মেয়াদ। একই সঙ্গে বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করছিলেন তিনি।
ইশতিয়াকের পদত্যাগের আগের দিনই আরেক পরিচালক মুখলেসুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তিনি বিসিবির অডিট কমিটির প্রধানের পদ ছাড়েন। বিষয়টি বোর্ডের ভেতরে চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপরই সামনে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য। দেশের এক ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিকের প্রতিবেদনে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে বিসিবির পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর শুক্রবার বিসিবির সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এর আগেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অব্যাহতি দেওয়া হয় পরিচালক নাজমুল ইসলামকে।
সব মিলিয়ে ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের ভেতরে-বাইরে চলমান বিতর্ক, অভিযোগ এবং সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে আরও অন্তত দুইজন পরিচালক পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে। ফলে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ যে আরও বড় পরিবর্তনের মুখে, সেই আভাস এখন স্পষ্ট!