ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এইচআরএসএস এ নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করেন। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তার এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
একই ঘটনায় ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে। এতে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধার সৃষ্টি হয় বলে এইচআরএসএস জানায়।
সংগঠনটি জানায়, কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির ঘটনাও ঘটেছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি করেছে।
এইচআরএসএসের বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের এমন আচরণ সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটি কয়েকটি দাবি জানিয়েছে, সেগুলো হলো-
হামলার নির্দেশদানকারী ও জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা
আহত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা
ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও সাংবাদিকতার কাজে পুলিশের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর নির্দেশনা জারি
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনআস্থা আরও কমবে এবং দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকার বাস্তবে প্রমাণ করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।